শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনে ভূয়া সার্টিফিকেট বানানো এবং তা দিয়ে লোন উত্তোলন। এ রকম স্টুডেন্ট লোন নিয়ে ওয়েলসের এক কলেজে জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়েছে।
বিবিসির একজন সাংবাদিক ভূয়া জিসিএসই সার্টিফিকেট দিয়ে ঐ কলেজের মাধ্যমে ফান্ডিং পেয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন স্টুডেন্ট জানান, শাহজাহান তাকে সুযোগ হাত ছাড়া না করতে বলেছেন। এবং তাকে বলেছেন আবেদন করলেই তাকে ১০হাজার পাউন্ড স্টুন্ডেন লোন দেয়া হবে । সাথে থাকছে আরো গ্রান্ট।
ভূয়া সার্টিফিকেট বানানো এবং তা দিয়ে লোন উত্তোলনের ঘটনায় ওয়েলসের একটি কলেজের ফান্ডিং সাসপেন্ড হয়েছে। এসব জালিয়াতেও এশিয়ান নাগরিকদের নাম উঠে এসেছে। বিবিসির একজন ছদ্মবেশী রিপোর্টারকে ভূয়া সার্টিফিকেট দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর স্টুডেন্ট লোনের পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবী উঠেছে। এডুকেশন মিনিষ্টার হিউ লুইস ঐ কলেজের পেমেন্টে সাসপেন্ড করেছেন। তবে বলেছেন, এব্যাপারে পর্যাপ্ত আইন কার্যকর রয়েছে।
বিবিসির উইক ইন উইক আউট নামে একই প্রোগ্রামে দেখা যায় ঐ কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মনোজ কুমার ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির পিএইচডি এবং টিচিং সার্টিফিকেট ভূয়া। কলেজের মালিক ভারত বাঘেজা তার কলেজে ছাত্র ভর্তিতে কোন ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
তিনি আরো বলেন, তিনি কখনো শাহজাহানকে কলেজের রিক্রুটমেন্ট ডায়রেক্টর নিয়োগ দেননি এবং কলেজের প্রিন্সিপালকে তার পদ থেকে অপসারন করা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর শুক্রবার ওয়েলস সরকার ঐ কলেজের ফান্ডিং সাসপেন্ড করেছে।
ওয়েলস সরকার প্রতি বছর স্টুডেন্টদের হাজার হাজার পাউন্ড লোন দিয়ে থাকে। কিন্তু সরকারের স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ছাত্রদের সার্টিফিকেট আসল না নকল তা পরিক্ষা করার ক্ষমতা নেই। গত মঙ্গলবার ওয়েলস এসেম্বলীর পাবলিক একাউন্ট কমিউটির চেয়ারম্যান ডারেন মিলার বলেন, ওয়েলসের অডিটর জেনারেল ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তিনি বলেন, আমরা চাই ওয়েলস সরকার বিষয়টি দ্রুত উত্তর দিক।
কার্ডিফের ওয়েষ্ট লন্ডন ভকেশনাল ট্রেনিং কলেজের একজন রিক্রুটার দাবী করে বলেছেন যে, তারা প্রতারনার মাধ্যমে হাজার হাজার পাউন্ড গ্রহন করতে সক্ষম। কাজী শাহজাহান নামক এক ব্যক্তি কোয়ালিফিকেশনের জন্য কোর্স ওয়ার্ক বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মি: শাহজাহান বিবিসি ওয়েলসের রিপোর্টারকে জানান, তাদেরকে পড়াশুনা করার জন্য পুরাপুরি ক্লাসে হাজিরা দিতে হবে না। কারন তারা বছরে ৮/৯টি এসাইনমেন্ট কিনতে পারবে। ছদ্মবেশি রিপোর্টারকে শাহজাহান জানান ছাত্ররা যদি নিজ দেশ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে সেটাও তারা গ্রহন করেন।
শাহজাহান ছদ্মবেশি রিপোর্টারকে আরো বলেন, ব্রিটেনের বাইরে নিজ দেশে যদি কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে তাহলে তারা সেই সার্টিফিকেট বানাতে পারে। কোন সার্টিফিকেটের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ছাত্রদের শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও অসুবিধা হয় না।
জানা যায়, কার্ডিফের ওয়েষ্ট লন্ডন ভকেশনাল ট্রেনিং কলেজটি নগরীর গ্রেফেয়ার রোড়ে অবস্থিত এবং প্রায় ১শজন আইটি ও বিজনেস স্টুডেন্ট রয়েছে। আইন অনুযায়ী যেসব ছাত্র হাইয়ার ন্যাশনাল ডিপ্লমা পড়ছে তারা বছরে ১৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত লোন নিতে পারে। আর এই লোনের টাকা চাকুরী জীবনে যখন বছরে ২১ হাজারের বেশি আয় করবে তখনি পরিশোধ করতে হবে। আর কলেজ টিউশন ফি বাবত প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ৬হাজার পাউন্ড নিতে পারে।