শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: রোববার উত্তরপ্রদেশের আগ্রাতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক কর্মীর শোকসভায় বক্তব্যে উপস্থিতি আলোচকরা এক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তাদের ধ্বংস করতে হবে। সংঘ পরিবারের পক্ষ থেকে মুসলমানদের রাক্ষস ও রাবনের উত্তরসূরি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মুসলমানদের কোনঠাসা করতে ও রাক্ষসদের ধ্বংস করতে হিন্দুদের প্রতি আহ্বানও জানান বক্তারা।
বিজেপি, আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের দাবি অরুণ মাহাউর গরু রক্ষা করতে গিয়ে মুসলমানদের হামলায় নিহত হয়েছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ৫ মুসলমান যুবক গরু হত্যা বা পাচারে জড়িত না। মাহাউরের সঙ্গে ৫ যুবকের ঝগড়ার পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস খবরটি সোমবার প্রধান শিরোনাম করেছে।
কয়েকজন মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে অরুণ মাহাউর নামের ওই শ্রমিককে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির এমপি রাম শংকর কাথেরিয়া। ছিলেন বিজেপির ফতেহপুর সিকরির এমপি বাবু লালসহ স্থানীয় নেতারা। মুসলমানদের ওপর হামলার দায়ে জেল খেটে মুক্তি পাওয়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জেলা সেক্রেটারি অশোক লাভানিয়া বলেন, মাহাউরের আত্মত্যাগে মানুষের মাথা নত করা উচিত।
রাম শংকর কাথেরিয়া বলেন, আমাদের নিজেদের শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আমাদের লড়াই শুরু করতে হবে। আমরা যদি লড়াই শুরু না করি তাহলে, আজ আমরা অরুনকে হারিয়েছি, কাল আরেকজনকে হারাব। আরেকজনকে হারানোর আগে আমাদের অবশ্যই নিজেদের শক্তি দেখাতে হবে যাতে খুনিরা পালিয়ে যায়।
এ সময় উপস্থিত ৫ হাজার মানুষ স্লোগান দেন যে হিন্দুর রক্ত গরম হয় না, সে সত্যিকার হিন্দু না। কঠোর নিরাপত্তায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জয় ও বজরঙ্গ দলের নেতারা। বক্তব্যে সুরেন্দ্র প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, আপনারা দেখেছেন মুজাফফর নগরে কী ঘটেছে। আগ্রাকে মুজাফফর নগরে রূপান্তরিত করবেন না।