রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫

নিজ মেয়েকে হত্যার দায়ে ঘাতক পিতার ২৩ বছরের জেলদন্ড লন্ডনে

নিজ মেয়েকে হত্যার দায়ে ঘাতক পিতার ২৩ বছরের জেলদন্ড লন্ডনে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নিজ মেয়েকে হত্যার অভিযোগে এক পাষন্ড পিতাকে ২৩ বছরের জেলদন্ড দিয়েছেন লন্ডনের ওল্ডবেইলি আদালত। মঙ্গলবার ওল্ডবেইলি আদালতে সাজা ঘোষণার পর মেয়ে হত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আসামী বাটলার নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন। মেয়ে এলি জাম্পিং করে জখম হওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছে বলে দাবী করেন তিনি।

২০১৩ সালের অক্টোবরে এলিকে হত্যার পর বদমেজাজি বাবা তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশকে না জানিয়ে এলির মাকে টেলিফোন করেন। মা জেনি গ্রে তখন সেন্ট্রাল লন্ডনে কাজে ছিলেন।

জেনি আসার পর প্রথমে এলির মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা পরে জরুরী নাম্বারে টেলিফোন করে এলির জখমের বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এরপর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে এলির বাবা মাকে গ্রেফতার করে।

ঘাতক পিতার নাম বেন বাটলার। বয়স ৩৬ বছর। ২০১৩ সালের অক্টোবরে সাউথ ওয়েস্ট লন্ডনের সাটনে নিজের ঘরে ৬ বছরের মেয়ে এলিকে হত্যা করে বদমেজাজি পিতা বেন বাটলার। মেয়েকে হত্যার দায়ে কমপক্ষে ২৩ বছর জেল খাটতে হবে তাকে। একই সঙ্গে মেয়ের মা জেনি গ্রেকেও ৪২ মাসের জেল দিয়েছে আদালত।

জানা যায়, এলির জন্মের পর থেকেই বদমেজাজি বাবা তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দিয়ে আসছিল। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে এলির বয়স যখন ৬ সপ্তাহ ছিল তখন তার শরীরে প্রথম জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। একই বছরের জুনে এলিকে দেখাশুনার দায়িত্ব দেয়া হয় তার গ্র্যান্টপেরেন্টসকে।

২০০৮ সালের জানুয়ারীতে ফ্যামিলি কোর্টে এলির জখমের জন্যে বাবাকে দোষি সাব্যস্ত করা হয় এবং তার মা তাকে প্রতিরক্ষা দিতে ব্যর্থ হন বলে প্রমাণিত হয়।

২০০৯ সালের মার্চে আদালতে মেয়ে এলিকে জখমের দায়ে বাবা বেন বাটলারের ১৮ মাসের জেল হয়। ২০১০ সালের জুনে নিউ মেডিক্যাল এভিডেন্সের ভিত্তিতে কোর্ট আপিলে এলির বাবার ক্রিমিনাল কনভিকশন রহিত বা বাতিল করা হয়।

এরপর ২০১২ সালের জুলাইয়ে এলিকে তার বাবা মার তত্ত্বাবধানে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেয় ফ্যামিলি কোর্ট। একই বছরের নভেম্বরে এলি বাবা মায়ের কাছে ফেরত আসে। আর অক্টোবর ২০১৩ সালে বাবার হাতেই প্রাণ যায় ৬ বছরের এলির।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ছোট্ট মেয়ে এলিকে খুব জোড়ে ঝাঁকুনি দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন পিতা বেন বাটলার ও তার স্ত্রী। এরপর থেকে এলিকে তার নানা এবং সোসাল ওয়ার্কার ও পুলিশের অধিনে রাখা হয়। হাইকোর্টে লড়াই করে ২০১২ সালে মেয়েকে ফেরত পান তার পিতামাতা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026