শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বৈশাখী মেলা আবারো বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ডে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ড রেসিডেন্স ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা এই হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ড রেসিডেন্স ফোরাম চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান, এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অধিবাসী কাউন্সিলার সুলক আহমদসহ আরো অনেকে।
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগস তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কথা রক্ষা করেন নি। মেয়র আমাদের কথা দিয়েছিলেন স্থানীয় অধিবাসীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে বৈশাখী মেলার সিদ্ধান্ত নিবেন। কিন্তু তিনি তার দেয়া কথা রাখেন নি।
অপর দিকে বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ড রেসিডেন্স ফোরাম নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ডে মেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ থাকলেও অপ্রীতিকর কোন কিছু ঘটে এমন পদক্ষেপ তারা নিবেন না। তবে আইনী পদক্ষেপ নেয়ার কথা তারা ভাবছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বহুজাতিক ও বহু সাংস্কৃতিক এই দেশে আমরা বৈশাখী মেলা কেন, কেনো মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি মনে করিনা। কিন্তু বেশ কিছু সংগত কারনে আমরা মনে করছি বিশাল পর্যায়ে নেয়া এই মেলা বিগত তিন বছরের মত একটি বিশাল খোলা মাঠে সুন্দর পরিবেশে হয় উচিত।
এতে মেলা কমিটি বা মেলার আগতদের কোনো সমস্যা হবে না। আর আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ সহিংসতার মত ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবো। মেলার দিনে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে যানবাহন চলাচলে, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে ও বাধা সৃষ্টি করার মতো সংকট আমাদের থাকবে না।
বাংলা টাউনে প্রায় ১৬ বছর যাবৎ বৈশাখী মেলা হয়ে। শুরুতে এই মেলা বেশ ছোট ছিলো এবং ছিল জামেলা মুক্ত। তখন শুধুমাত্র আইলেন গার্ডেন নামক ছোট মাঠটিতে অনুষ্ঠিত হত এই মেলা। কিন্তু পরবর্তীতে এটা শুধু একটি মাঠই নয় বরং প্রায় পুরো বাংলা টাউন ও উইভার্সফিল্ড জুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়া শুরু করে।
ফলে মেলার সময় উক্ত এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারা বলেন, প্রায় ৯টি যুক্তি সংগত কারন দেখিয়ে আমরা বিগত ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ৩০০০ স্থানীয় বাসিন্দার সাক্ষর নিয়ে কাউন্সিলের কাছে লিখিত আবেদন করি। এবং কাউন্সিল জনস্বার্থে এই মেলা ভিক্টোরিয়া পার্কে স্থানান্তর করেন।
বিগত তিন বছর ভিক্টোরিয়া পার্কে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো। কিন্তু এই বছর আমরা শুনতে পাচ্ছি বর্তমান মেয়র জন বিগস এই মেলা ও উইভার্সফিল্ড‘স এ ফিরিয়ে নিয়ে আসছেন।
এরই আলোকে মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র এর সাথে গত জানুয়ারি এবং মার্চ ২০১৬ দুইটি বৈঠক হয়। মেয়র জন বিগস সেই বৈঠক গুলোতে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেন, মেলা উইভার্সফিল্ড এ ফিরিয়ে আনার কোনো চিন্তা করছেন না। এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো অসুবিধা হয় এমন কাজ করবেন না।
তারপরেও আমরা মেয়র সাহেব কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আমারা নতুন করে আপনাকে কোনো আবেদন দেয়ার দরকার আছে কি? তিনি সরাসরি আমাদেরকে দরকার নেই বলে জনিয়েছেন।
সম্প্রতি এপ্রিল ২০১৬ এ বেশ কিছু মিডিয়ায় মেয়র জন বিগস বলেছেন কিছু ব্যবসায়ীদের স্বার্থে মেলা উইভার্সফিল্ড এ ফিরিয়ে আনতেছেন। এরপর থেকে আমরা মেয়র সাহেবের সাথে বৈঠক করার জন্য ইমেইল ও ফোন সব ধরনের যোগাযোগ করি কিন্তু আমরা কোনো এপয়েনমেন্ট পাইনি। পরে আমরা পরামর্শের ভিত্তিতে প্রায় ২৫০০ সাক্ষর নিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস্ ফুল কাউন্সিলের কাছে ৮ই জুন জমা দেই এবং কাউন্সিল অফিসার এর মাধ্যমে মেয়র সাহেবকে এক কপি প্রেরণ করি।
৯ই জুন মেয়র অফিস থেকে ১৩ই জুন সোমবার বিকাল ৪.৩০ মিনিটে এপোয়েনমেন্ট এর ইমেইল পাই এবং আমরা কনফার্মেশন রিপলাই করি কিন্তু ১৩ই জুলাই সকাল ১২টায় মেয়র অসুস্থ বলে এপোয়েনমেন্ট বাতিল করা হয়।
এরপর থেকে আজ পর্যন্ত মেয়র অফিস থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। গত ২০ জুলাই কাউন্সিল মিটিং এ আমাদেরকে যাওয়ার আহবান করা হয় এবং আমরা স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা নিয়ে কাউন্সিল এ উপস্থিত হই। এবং আমাদের পিটিশন নির্ধারিত সময় আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করি। সেখানে লেবার দলের একজন কাউন্সিলার মিথ্যা তথ্য পেশ করেন। মেয়র তার বক্তব্যে বলেন যে আমরা তার সাথে কোনো যোগাযোগ করিনাই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা আমাদের কাছে প্রমান আছে।
তারা বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আমাদের টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল এর মেয়র আমাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের অসুবিধা না দেখে কিছু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ্য রক্ষা করতেছেন যারা এই টাওয়ার হ্যামলেটের বাসিন্দা নয়।
নির্বাহী মেয়র স্থানীয় বাসীন্দাদের কোন মূল্যায়ন করতেছেন না। এমনকি আমাদের ইমেইল এবং পিটিশনের কোন রেসপন্সও করছেন না। আমরা এই সম্মেলনের মাধ্যমে আবারো মেয়র সাহেবের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, যেন তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থে মেলাকে স্থানান্তর না করার জন্য।
উল্লেখ্য, মেয়র জন বিগস গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলন করেন আগামী রবিবারের বৈশাখী মেলায় অংশ নিতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।