রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯

আগামী মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে রাবিনা খানের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আগামী মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে রাবিনা খানের সমর্থনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খানের সমর্থনে কমিউনিটির বিশিষ্টজনের উদ্যোগে এক স্বত:স্ফুর্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৮ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েলের নিডা হাউজ হলে বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও শুভাকাাখীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আতিক মিয়ার সভাপতিত্বে ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপের লীডার কাউন্সিলার অলিউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান কাউন্সিলার আবুল আসাদ।

বক্তব্য রাখেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি লিডার, সত্তর ও আশির দশকের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক রাজন উদ্দিন জালাল, বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের প্রেসিডেন্ট মোঃ আবু হোসেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে ফান্ডিং কাট বিরোধী আন্দোলনের নেতা ট্রিনটন ওলডফিলড। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মনসুর আহমদ ও আলহাজ্ব কলা মিয়া।, শফি আহমদসহ আরো অনেকে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলার শাহ আলম ও কাউন্সিলার আমিনুর খান।

সমাবেশে বক্তারা আগামী মেয়র নির্বাচনে কাউন্সিলার রাবিনা খানের প্রতি বারাবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ২০১৫ সালের পুনঃনির্বাচনে মাত্র তিন সপ্তাহের ক্যাম্পেইনে তিনি প্রায় ২৭ হাজার ভোট লাভ করেছেন। এটা কমিউনিটির জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আগামী নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী মনোনীত করা হলে বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সাবেক মেয়র প্রার্থী কাউন্সিলার রাবিনা খান বলেন, ২০১০ সালে আমি যখন শাডওয়েল ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলার নির্বাচিত হই তখন এই এলাকার মানুষ আমাকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছিলেন। তাঁরা আমাকে যে বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন আমি তা রক্ষা করতে নিরলস কাজ করেছি।

সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের আমলে হাউজিংয়ে লীড মেম্বার থাকাকালে আমি টাওয়ার হ্যামলেটসের হাউজিং উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছি। হাউজিংয়ে আমাদের কার্যক্রম জাতীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। আমাদের সময়ে ইয়ুথ ও চিলড্রেস সার্ভিস, পুলিশ সার্ভিসসহ সকল ফ্রন্ট লাইন সার্ভিস অব্যাহত রেখেছিলাম যাতে বারাবাসীর কষ্ট না হয়। আমরা আমাদের সময় কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজ রেখেছিলাম। এখন কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর দুর্ভোগ ছাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফ্রন্ট লাইন সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আঠারোটি ইয়ুথ সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসবাসি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছেন।

এমতাবস্থায় টাওয়ার হ্যামলেটসের সচেতন মানুষই সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা আগামীতে তাদের অধিকার রক্ষার জন্য কাকে বেছে নেবেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সময়ের প্রয়োজনে আমাকে মেয়র প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছিলো। তখন গোটা বারার মানুষ আমার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। বারাবাসী আমাকে ২৭ হাজার ভোট দিয়েছিলেন।

এটা আমার জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি। এটা বারাবাসীর সফলতা। এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহনের এখতিয়ার আপনাদের হাতে। আপনাদের ভবিষ্যত, আপনাদের ছেলেমেয়েরদের ভবিষত জড়িয়ে আছে এই সিদ্ধান্তের উপর। আমার ট্রাক রেকর্ড দেখে যদি আমাকে আপনাদের সেবার জন্য যোগ্য মনে করেন তাহলেই সমর্থন করবেন।

আপনারা চাইলে আমি আপনাদের সেবা করতে প্রস্তুত থাকবো ইনশাল্লাহ। আলহাজ্ব আতিক মিয়া: সভাপতির বক্তব্যে কমিউনিটি নেতা আলহাজ্ব আতিক মিয়া একটি সুন্দর ও সফল সমাবেশ আয়োজনের জন্য উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী মেয়র নির্বাচনে রাবিনা খানকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করতে সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বর্তমান ফান্ডিং কাটের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ সময় পার করছি। আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।

সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলার রাবিনা খান ইতোমধ্যে যোগ্যতার সাক্ষর রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই মেয়রশীপ পনরুদ্ধার সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

সাবেক ডেপুটি লিডার রাজনউদ্দিন জালাল বলেন, ফান্ডিং কাটের কারণে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশী সংগঠনগুলো জর্জরিত। ইতোমধ্যে অনেক সংগঠনই বন্ধ হয়ে গেছে।

এমতবস্থায় কমিউনিটির স্বার্থে দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন এমন একজন মেয়র আমাদের প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, কাউন্সিলার রাবিনা খানই ২০১৮ সালের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মতো একমাত্র যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করি।

আমি তাঁকে একজন দক্ষ, কর্মক্ষম ও প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পেয়েছি। টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষকে সেবা করার জন্য তিনি হবেন সবচেয়ে যোগ্য মেয়র। তাঁকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়েই ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দেয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, কাউন্সিলার রাবিনা খান গত পুন:নির্বাচনে মাত্র ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেন নি। আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে তাঁকে অনায়াসেই বিজয়ী করা সম্ভব।

ইন্ডিপেন্ডডেন্ট গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান কাউন্সিলার আবুল আসাদ বলেন, আমার দীর্ঘ সাতাশ বছরের কাউন্সিলার জীবনের কিছু সময় কাউন্সিলার রাবিনা খানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এই সময়ে আমি তাঁকে অত্যন্ত দক্ষ ও কর্মক্ষম কাউন্সিলার হিসেবে পেয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

তিনি বলেন, রাবিনা খান দীর্ঘদিন দক্ষতা ও সফলতার সাথে হাউজিং লীড মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হাউজিং খুবই গুরুত্বপুর্ন একটি বিভাগ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুবিধা-অসুবিধা হাউজিংকে কেন্দ্র করে। তিনি হাউজিং ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা মেটাতে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন। হাউজিং খাতে তাঁর রেখে আসা পলিসি এখনও সমাদৃত হচ্ছে।

কাউন্সিলার আসাদ বলেন, বর্তমানে কাউন্সিলের টাউন হল হোয়াটচ্যাপেলে স্থানান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে তাও সাবেক মেয়র আমলেরই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও কঠোর পরিশ্রমের ফসল।

বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের প্রেসিডেন্ট আবু হোসেন বলেন, তিনি শ্যাডওয়েলে একটি প্রজেক্ট পরিচালনা করেন। ওই প্রজেক্ট পরিচালনায় রাবিনা খান তাঁকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। সেই সুবাদে তিনি তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন। যে সকল কাউন্সিলার কাউন্সিলের অভ্যন্তরিন কর্মকান্ডের মেকানিজম বুঝেন তাঁদের মধ্যে রাবিনা খান অন্যতম দক্ষ ও তীক্ষ¦ বৃদ্ধিসম্পন্ন কাউন্সিলার। বর্তমানে কমিউনিটি সংগঠনগুলো ফান্ডিং কর্তনের ফলে বন্ধ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কমিউনিটি ল্যাগুয়েজেস সার্ভিসে মোটা অংকের বাজেট কর্তন করায় এই সার্ভিসও বন্ধ হওয়ার পথে।

তিনি বলেন, আমাদের ভাষা শিক্ষা ও শিশুদের ভবিষ্যত অন্ধকার। এমতাবস্থায় রাবিনা খানের মতো দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মেয়র প্রার্থী মনোনীত করে তাঁকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই কমিউনিটি হিসেবে আমরা টাওয়ার হ্যামলেটসে টিকে থাকতে পারবো। আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই তাঁকে নির্বাচিত করবো। অন্য কারো স্বার্থে নয়।

ফান্ডিং কাট বিরোধী আন্দোলনের নেতা ট্রিনটন ওলডফিলড বলেন, নির্বাচন এলেই ডানপন্থী মিডিয়া বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার শুরু করে। রাবিনা খানের পেছনে টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। মিডিয়ার প্রপাগান্ডায় তোয়াক্কার করার কিছু নেই। মিডিয়ার প্রপাগান্ডা রাজনৈতিক গেইম ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে ফাডিং কাটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধু চিলড্রেন সার্ভিস থেকেই ৪.৩ মিলিয়ন পাউন্ড কেটে নেয়া হচ্ছে। এখন বুঝতে হবে টাওয়ার হ্যামলেটসের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত কী।

জন বিগস খুবই ভালনারেবল একজন ব্যক্তি ও মেয়র, তাঁর পলিসিও ভারনারেবল। এমতাবস্থায় দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে রাবিনা খানের কোনো বিকল্প নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাবিনা খানকে সমর্থন করি এবং প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে নির্বাচিত করতে সবধরনের ক্যাম্পেইনে জোরালো ভুমিকা রাখবো। এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদেরকে সঠিক-সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026