রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১

লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যেগে মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংম্বর্ধিত

লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যেগে মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংম্বর্ধিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের উদ্যেগে বাংলাদেশে খ্যাতনামা সিনিয়র সাংবাদিক ও বহুল প্রচারিত মানবজমিন ট্যাবলয়েড পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে এক সংম্বর্ধনা দিয়ে তারই নিজের গ্রাম নবীগঞ্জবাসী।

ঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টয় পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলিতে আয়োজিত এই সংম্বর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিনী মাহবুবা চৌধুরী।

পবিত্র কোরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে সভার শুরু হয়। নেহার মিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠান যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক তুহিন চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী।

কমিউনটির সর্বস্থরের মানুষের উপস্থিতিতে ভালবাসায় সিক্ত হন মতিউর রহমান চৌধুরী। প্রায় কয়েকশত মানুষের উপস্থিতিতে ভর্তি ছিল ব্যাংকুিইটিং হল। সংগঠনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরেন পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ দিপক।

সভার শুরুতে সভাপতির বক্তব্যে লন্ডন নবীগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব এবং বিশেষ করে নবীগঞ্জে দানশীল ব্যাক্তি নামে পরিচিত জনাব নেহার মিয়া চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা নবীগঞ্জবাসী আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে জনাব মতিউর রহমান চৌধুরীর সম্মানে এক সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করতে পেরেছি। যা জনাব চৌধুরী তার সম্মান স্বরুপ এই কৃতিত্ত্বের দাবীদার। তার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তার কাছে আমাদের এই আয়োজন নিতান্তই সামান্য।

জনাব নেহার মিয়া বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরী একজন মুক্তিযোদ্ধা যা শুধু নবীগঞ্জবাসী নয় পুরো বাংলাদেশেরই জানা। তবে খুবই অনুতাপের বিষয় যে, বাংলাদেশ সরকার তাকে কোন আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দেয়নি এখনো একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। অথচ এই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই আজ বাংলার জনগণ নি:চিন্তে নির্বিগ্নে নিশ্বাস নিতে পারছেন। নিজেদের স্বাধীনতা নিজরে মতো করে নিজ দেশে উপভোগ করছেন। অন্য জাতির ছায়াতলে নয়।

তাই আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সম্মানিত ব্যাক্তি মতিউর রহমান চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে তার অধিকার দেয়া হোক। এতে শুধু সরকার বা মতিউর রহমান সাহেব নয় পুরো বাংলাদেশ সম্বর্ধিত হবে। অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এরপরই বক্তব্যে রাখেন মানবজমিন প্রকাশক ও মতিউর রহমান চৌধুরীর সহধর্মিনী মাহবুবা চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে তার স্বামীর বাক্তিগত জীবন, চাকরী, প্রশাসনিকভাবে হেয় প্রতিপন্নতাসহ নানান উপকূলতা কিভাবে কাঠিয়েছেন তার এক সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করেন।

জনাবা চৌধুরী বলেন, আমি ঢাকার মেয়ে, সিলেটের নই। আমার বিয়ের আগে যখন প্রস্তাব আসলো সিলেটের বর। তখন আমার বাবা রাজি হলেও পারিবারিকভাবে আমার চাচা ঘোর আপত্তি জানালেন। কারণ সিলেটে আমাদের কোন আত্নীয়তা নেই। আর চাচা তার অভিজ্ঞতায় জানান, সিলেটের এক লোককে তিনি চেনে। যিনি ঢাকায় থাকতেন আমাদের পাশ্ববর্তী ফ্লাটে। ঐ ভদ্রলোক নাকি প্রতিদিন তার বউকে পেটাতেন। কিন্তু এতে ঘোর আপত্তি জানিয়ে আমার বাবা এগিয়ে এসে বললেন, ছেলেটাকে আমার ভাল লেগেছে। সব সিলেটি যে এক হবে তার কোন কারণ নেই।

যাই হোক, অনেকদিন হলো সংসার করছি সিলেটির সাথে। আমি ভালবাসা পেয়েছি অফুরন্ত কিন্তু কোন পেঠানো খাইনি। হলভর্তি সবাই তথন হেসে উঠেন।

মাহবুবা চৌধুরী আরো জানান, এরশাদ সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার নিন্দনীয় হতে হয়েছে মতিউর রহমান চৌধুরীকে। এরশাদ নিজে ডেকে নিয়ে তাকে প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্সিয়াল এওয়ার্ড চালু করবেন জনাব মতিউর রহমান সাহেবের মাধ্যমে। এতে তিনি পাবেন নগদ এক লক্ষ টাকা আর ক্রেষ্ট। কিন্তু তিনি তা নেননি বরং সংগ্রামী লেখনি চালিয়ে গেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার সাংবাদিকতা জীবনে কোন সময়ই অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি, সত্য প্রকাশ করতে যেয়ে বহুবার হুমকীর সম্মুখীন হয়েছি। বিভিন্ন সময় পেয়েছি লোভনীয় অফার। সব ধরনের ভয়ভীতি লোভ-লালসার উর্ধে থেকে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কোন দিনই অন্যায়ের সাথে আপোষ করিনি।

প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী প্রবাসীদের বিষয়ে বলতে গিয়ে নিজের মনের একান্ত সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি জানিনা এখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা কে কোন রাজনীতির সাথে জড়িত বা বিশ্বাস করেন। আমি এক বাক্যে সকল প্রবাসীদেরকে বলবো আপনারা দেশের রাজনীতির সাথে জড়িতে না হয়ে এ দেশের প্রধান রাজনীতির সাথে জড়িত হোন। এতে শুধু আপনি গৌবরজ্বানিত হবেন না। আপনার পরিবার, দেশের মানুষ, এমনকি নিজ দেশকেও আপনি সম্মানিত করতে পারবেন আপনার কর্মজজ্ঞের মাধ্যমে।

এক সময় আমারও কিন্তু লন্ডন প্রবাসী হওয়ার কথা ছিল। আমার বাবা ছিলেন প্রবাসী, পরিবারের প্রায় সবাই প্রবাসী। হয়তো লন্ডন প্রবাসী হলে লন্ডন শহরে একজন রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হতাম আর নয়তো চাকরী করতাম। কিন্তু আমি বেচে নিয়েছি সাংবাদিকতা। গ্রামের মফস্বল থেকে আমার সাংবাদিকতা শুরু। এভাবেই একান্তে নিবিড় মনে একে একে তার মনের কথা উপস্থিত সকল অতিথির সমানে তুলে ধরেন মানবজমনি সম্পাদক।

এর আগে একে একে বক্তব্য রাখেন, লন্ডনে অবস্থানরত কমিনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারমধ্যে বারিষ্টার আতাউর রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট এর উপদেষ্ঠা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী, টিভি প্রেজেন্টার মাহমুদা চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, কাউন্সিলার জিলানী চৌধুরী, কাউন্সিলার আমিনুর রশিদ তালুকদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির, লে: কর্ণেল অব: এহমার, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সাংবাদিক রহমত আলী, ব্যারিষ্টার মাহমুদুল হক, সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সাংবাদিক মুহিত চৌধুরী, মির্জা তসনু বেগ, এম এ রউফ একাউনটেন্ট, সাবেক চেয়ারম্যান ছালিক মিয়া, কাউন্সিলার ফারুক আনসারী, ডা: নুরুল আলম, আতিকুর রহমান লিটন, আবুল কালাম আজাদ ছোটন,  সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন, বাংলা টিবি প্রেজেন্টার জাহাঙ্গীর রানা, রুমান বখত চৌধুরী, কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ কমিউনিটি বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026