শীর্ষবিন্দু নিউজ: বহুল আলোচিত সাভারের রানা প্লাজা ট্রজেডি,তাজরিন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার এখানেই শেষ নয়। মঙ্গলবার গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন অন্তত নয়জন। শ্রীপুর উপজেলায় বেরাইদেরচালা এলাকায় পলমল গ্রুপের আসওয়াদ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানায় মঙ্গলবার বিকালে আগুন লাগে।
গাজীপুর, টঙ্গী এবং ময়মনসিংহের ভালুকার ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট রাত দেড়টার দিকে আগুন নেভায়। এরপর লাশ উদ্ধার শুরু হয়। শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। গাজীপুরের দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহনওয়াজ দিলরুবা খান ও শেবাশ্চিম রেমাও আছেন সেখানে।
নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- কারখানার উপ মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রাশেদুজ্জামান, নাঈম, শ্রমিক রুবেল, খলিল, লাজু মিয়া ও বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রাজু। রাশেদুজ্জামানের বাড়ি কুড়্রিগ্রাম জেলায়। তার ভাগ্নে নাঈমের বাড়ি বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুরে। রাত দেড়টার দিকে তাদের লাশ বের করে আনা হয়। রুবেল ও লাজু মিয়ার বাড়িও রংপুরের মিঠাপুকুরে।
গত বছরের নভেম্বরে আশুলিয়া তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক মারা যান। এরপর গত এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রম পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সে দেশের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের বিশেষ সুবিধা (জিএসপি) বাতিল করে।
জানা যায়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কারখানার নিচতলায় আগুন ধরে। পরে তা দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাঁচতলা ওই ভবনের পুরোটাজুড়েই আগুন ছড়িয়ে যায়। কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আসওয়াদ নিটিং অ্যান্ড ডায়িং কারখানার পরিচালক এমদাদ হক জ্বলন্ত কারখানার সামনেই ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রতি শ্রমিকের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে লাশ দাফনের খরচ দেবেন বলেও জানান।