শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩০

রাজা চার্লস থাকছেন না বাকিংহাম প্যালেসে, চলতি বছর কর দিয়েছেন ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড

রাজা চার্লস থাকছেন না বাকিংহাম প্যালেসে, চলতি বছর কর দিয়েছেন ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড

প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যের অবসান ঘটিয়ে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না রাজা তৃতীয় চার্লস। বৃহস্পতিবার রাজপরিবারের কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিনের বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউসেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা চার্লস। প্রায় ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে চলমান বাকিংহাম প্যালেসের ১০ বছরের সংস্কারকাজ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বদলানো হচ্ছে।

১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে বাকিংহাম প্যালেস লন্ডনে ব্রিটিশ রাজাদের প্রধান আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে রাজকীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্কার শেষে প্যালেসটি মূলত রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহৃত হবে।

রাজকোষের তত্ত্বাবধায়ক জেমস চ্যালমার্স বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অতিথিদের অভ্যর্থনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো এখানেই অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এটি রাজতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে। এটি আমাদের জাতীয় স্থাপনাগুলোর মুকুটমণি এবং রাজা লন্ডনে অবস্থান করলে এখানেই উড়বে রাজকীয় পতাকা।

২০১৯ সালের পর থেকে রাজা চার্লস কিংবা প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেউই বাকিংহাম প্যালেসে রাতযাপন করেননি। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্যালেসে রাজার ব্যক্তিগত কক্ষ সংরক্ষিত থাকবে।

প্রতি বছর প্রায় সাত লাখ মানুষ বাকিংহাম প্যালেস পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্কার শেষ হলে সাধারণ মানুষের জন্য প্যালেসে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।

এদিকে প্রথমবারের মতো রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত কর পরিশোধের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) কর দিয়েছেন, যা তাকে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ করদাতাদের অন্যতম করে তুলেছে।

আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ রাজাকে আয়কর, মূলধনী মুনাফা কর বা উত্তরাধিকার কর দিতে বাধ্য করা হয় না। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্বেচ্ছায় কর দেওয়া শুরু করেন এবং সেই ধারাই বজায় রেখেছেন রাজা চার্লস।

রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৩ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড কর দেন।

রাজা চার্লস ব্যক্তিগতভাবে ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে আয় করেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সম্পত্তি থেকে তার আয় হবে ২ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। এছাড়া তার অন্যান্য বিনিয়োগ ও সম্পদ থেকেও আয় রয়েছে।

অন্যদিকে রাজপরিবার পরিচালনা, রাজপ্রাসাদ রক্ষণাবেক্ষণ ও ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য সরকার থেকে ‘সোভরেন গ্রান্ট’ নামে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ বরাদ্দ হবে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড।

তবে রাজা চার্লসের ইচ্ছা অনুযায়ী ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে এই বরাদ্দ কমিয়ে ১০ কোটি পাউন্ড করা হবে এবং ২০৩১-৩২ পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড কর দিয়েছেন। তবে রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়াম দুজনই সম্প্রতি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তির ভাড়া সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায় করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026