শীর্ষবিন্দু নিউজ: হেফাজতবিরোধী মতিঝিল অভিযান নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার দুই মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্র।
শুক্রবার বেলা পৌনে এগারোটায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার (পার্ট-১) থেকে মুক্ত হন তিনি। কাশিমপুর কারাগারের (পার্ট-১) জেলার আব্দুল কুদ্দুস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। দুদিন আগেই ছয়মাসের জামিন পান তিনি। গাজীপুরের কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-১ কতৃপক্ষ জানান, জামিনের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর শুক্রবার সাড়ে ১০টার দিকে আদিলকে মুক্তি দেন তারা।
বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলের এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গত মঙ্গলবার ছয় মাসের জন্য জামিন দেয় হাই কোর্ট। তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ। হেফাজতবিরোধী মতিঝিল অভিযান নিয়ে বিকৃত তথ্য প্রকাশের অভিযোগে গত ১০ অগাস্ট রাতে গুলশানে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন আদিল।
আদিলকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মতিঝিল অভিযান নিয়ে বিকৃত তথ্য ও ছবি প্রচারের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অধিকারের সেক্রেটারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারীবিরোধী’ ১৩ দফা দাবিতে গত ৫ মে মতিঝিলে অবস্থান নেয়া হেফাজতে ইসলামীর তো-কর্মীদের গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে হটিয়ে দেয়া হয়। রাতের ওই অভিযানে কেউ নিহত হননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও ডানঘেঁষা মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এক প্রতিবেদনে বলে, ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হন।
এরপর গত ১০ অগাস্ট আদিলকে আটকের পর তাকে ৫৪ ধারায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর আদিল ও অধিকারের পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে নতুন প্রণীত তথ্য প্রযুক্তি আইনে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদিল ও এলানের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলাটি চলছে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে। এ ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম শামসুল আলম ১১ সেপ্টেম্বর অধিকারের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ আমলে নেন। দুই আসামির মধ্যে এলান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
গত ৫ ও ৬ই মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যৌথ অভিযানকে ঘিরে অসত্য তথ্য প্রচারের অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে তাকে গ্রেপ্তার তাকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। ১১ই আগষ্ট ঈদুল ফিতরের পরদিন তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর ঈদুল আজহার আগে মুক্তি পেলেন তিনি। আদিলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার জানিয়ে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।