শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপি নেতৃত্বদানকারী দেশ আমেরিকা নামক দেশটি ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত কি ঘটবে- ঠিকঠাক কেউ তা জানে না। তবে বিশ্ববাসীকে আপাতত সেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। দফায় দফায় বৈঠক আর দর কষাকষির পর একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে বন্ধ থাকা সরকারি কর্মকাণ্ড চালু এবং সরকারের ঋণ নেয়ার সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংগ্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। কিন্তু ওবামার স্বাস্থ্য বিল নিয়ে দুই দলের মতানৈক্যে বাজেট আটকে যাওয়ায় মাসের শুরু থেকেই অর্থাভাবে পড়ে প্রশাসন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখতে যাওয়ার ফেরি বন্ধ হয়ে যায়। তালা পড়ে ১৪০টি ন্যাশনাল পার্কের ফটকেও। নাসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় ৭ লাখ মানুষ।
বর্তমানে ১৬.৭ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ধার করতে পারে আমেরিকা সরকার। এ অবস্থায় সমঝোতা না হলে এবং ঋণসীমা না বাড়ালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হয়ে পড়ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ফলে বিভিন্ন দেশের হাতে থাকা মার্কিন বন্ডের দাম হু হু করে পড়ে যেত, ডলারের দরও ধরে রাখা যেত না। ঋণমানেও যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন ঘটতো। যার প্রভাবে বিশ্ব আবারো ২০০৮ সালের মতো মহামন্দায় পড়ত বলে অনেকের আশঙ্কা।
অবশেষে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত সংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে বুধবার এই সমঝোতার বিল পাস হয় ৮১-১৮ ভোটে। এরপর বিরোধী দল রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রতিনিধিনিধি পরিষদও ২৮৫- ১৪৪ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। সবশেষে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই বিলে সই করেন। আর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে ক্যালেন্ডারে ১৭ অক্টোবরের পাতা উল্টে যাওয়ার আগেই। বলা হচ্ছে, বুধবারের মধ্যে ১৬.৭ লাখ কোটি ডলারের বেশি ধার করার ছাড়পত্র না পেলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগের ঋণ শোধ করতে না পেরে খেলাপি হয়ে যেত। হোয়াইট হাউজ আশা করছে, বাজেট পাস না হওয়ায় যাদের বেতন আটকে গিয়েছিল এবং যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই তারা কাজে ফিরতে পারবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ওই সময়ের মধ্যে বিরোধী দলকে বাগে আনতে না পারলে আগামী বছরের শুরুতে বিশ্ববাসীকে আবারো হয়তো শাটডাউন দেখতে হবে। আবারো হয়তো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং বিশ্বকে মন্দার শঙ্কার মধ্যে পড়তে হবে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বিলে সই করে আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করেছে ওবামা। তিনি বলেছেন, এই টানাপড়েনে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের যে আস্থা তারা হারিয়েছেন, তা অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে।
অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, বুধবারের সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান আসেনি। কারণ স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় ও ঘাটতি নিয়ে মূল আলোচনায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা আপাতত বিল পাস করে সঙ্কটকে কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছেন মাত্র। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত খরচ চালানোর মতো তহবিল পাবে। আর ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগের তুলনায় বেশি হারে ঋণ নিতে পারবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে সঙ্কটের আবর্তে আটকে থাকার অভ্যাসও আমাদের ছাড়তে হবে।