বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৬

ঘুষ দিয়ে পাজারো প্রবেশ বাংলাদেশে: তিন লন্ডন প্রবাসী লাপাত্তা

ঘুষ দিয়ে পাজারো প্রবেশ বাংলাদেশে: তিন লন্ডন প্রবাসী লাপাত্তা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেটে কয়েকদিন থেকে চলা টক অব দ্যা টাউন বাংলাদেশে সীমানায় অর্তকির্তে ঢুকে পড়েছে দুই পাজারা গাড়ি। সেসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চেক করে বলা হয়েছে লন্ডন থেকে রেজিষ্টার্ড এসব গাড়ি বাংলাদেশের কোন দুই রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে সীমানা পাড়ি দিয়ে লাপাত্তা।

দেরীতে হলেও বিজিবি ও পুলিশ এই রহস্য উৎঘাটন করতে পেরেছে। এই দুই প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, কোন ধরনের তল্লাশি ছাড়াই আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে পাজেরো দু’টো বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চালিয়েছিল লন্ডন প্রবাসী তিন জন। যাদের মধ্যে একজনের নাম কাবুল মিয়া ও অপর দুই সহযোগী মোহাম্মদ আসকর উদ্দিন ও আমতর আলী । মূলত কাবুলই এর মূল হোতা।কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের অবৈধভাবে ঢোকার সুযোগ দেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা ছিল, পাজেরো দু’টো কোন বিশেষ মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। সিলেট সীমান্তে জোরপূর্বক প্রবেশ করা দু’টো পাজেরোর ঘটনায় প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে নিত্য নতুন তথ্য। আর এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চলছে তদন্ত। সুতারকান্দি সীমান্তে তিন বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত। এর মধ্যে সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে বর্ডার গার্ড-বিজিবি। ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে পুলিশ। আর মালামালের দায়িত্বে কাস্টমস।

সুতারকান্দি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক কাবুল, আসকর ও আমতর গাড়ি নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢোকার আগে টানা তিন দিন ওই সীমান্তে মহড়া দিয়েছে। ঢোকার আগের দিন বুধবার বিকালে ভারতীয় ইমিগ্রেশনে তারা সব কাজ শেষ করে। সীমান্তের উপারে আজাদ নামে এক ব্যক্তি তাদের জন্য দাঁড়িয়েছিল। সে পাজেরো আরোহী আসকরের ভাই বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছে। ওইদিন আজাদের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত না পাওয়ায় তারা আসেনি। ওই সময় আমতর আলী অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে ভারতের করিমগঞ্জের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। বৃহস্পতিবার ঠিকই তারা ভারতীয় ইমিগ্রেশনে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তব্যূহ ভেঙে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পালিয়ে যায়।

বাংলাদেশে আসা ওই তিন আরোহীকে গাড়ি চোরাকারবারি হিসেবে মানতে নারাজ সিলেটের পুলিশ। তারা বলেন, ওরা নাশকতাবাদী। এ অভিযোগেই এদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। তাদের ধরতে সিলেটে একাধিক ফাঁদ পেতেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, কাবুল, আসকর ও আমতর আলী সিলেটে আছে। সিলেট মেট্রোপলিন পুলিশের এডিসি মো. আইয়ুব জানান, কাবুল, আসকর ও আমতর আলী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে না। সব রহস্য খোলাসা করতে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ওরা গাড়ি চোরচক্র কিনা জানি না। তবে নাশকতাবাদী হিসেবে আমরা চিহ্নিত করেছি।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভারত থেকে অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশ করা দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি ভারতে আসার তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। কাবুল মিয়া ও মোহাম্মদ আসকর উদ্দিন লন্ডনের কারনেট (নং ডিইএক্স-০০০২৭৯৭ ও ডিইএক্স ০০০২৭৮১) নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে দ্য রয়েল অটো মোবাইল ক্লাব নামের একটি পর্যটন ক্লাবের সদস্য হন। পরে ওই ক্লাবের কাগজপত্রের মাধ্যমে গাড়িগুলো ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে কাগজপত্র দেখানো হলে ভারতের দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান আটো মোবাইল এসোসিয়েশনের তালিকাভুক্ত হয়ে সে দেশে ৬ মাসের জন্য গাড়ি নিয়ে ভ্রমণের বৈধতা লাভ করে।

পরে তারা ভারত থেকে সুতারকান্দি সীমান্তপথে এ দেশে আসার জন্য প্রথমে বুধবার এক দফা সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। ওইদিন না এসে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে এদেশে পৌঁছে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপদে সিলেটে চলে যায়। লন্ডনের এসব ক্লাবের মাধ্যমে ৬ মাসের জন্য অনুমোদন নিয়ে গাড়িসহ ভ্রমণে এসে তারা গাড়ি বিক্রি করে দেয়। যাওয়ার সময় চক্রটি এসব গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনায় নষ্ট হয়েছে কিংবা বিকল হয়েছে মর্মে কাগজপত্র তৈরি করে নিয়ে যায়। পরে সে দেশের সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব কাগজপত্র জমা দিয়ে দায়মুক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি সূত্র মতে, লন্ডনে অতি কম মূল্যে বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি কেনা সম্ভব। কম দামে গাড়ি কিনে দেয়ার জন্য সেখানে রয়েছে আরেকটি নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশে বিদেশী ব্র্যান্ডের পাজেরো, প্রাডো, এক্স-৫, মার্সিডিজসহ লেটেস্ট মডেলের গাড়ির কদর বেশি। এসব সিন্ডিকেট কখনও বিলাসবহুল গাড়ি টুকরা টুকরা করে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে কার্গোযোগে দেশে পাঠিয়ে থাকে। আর এসব যন্ত্রাংশ জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে এলে দেশীয় এজেন্টরা তা কৌশলে খালাস করে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি লন্ডন থেকে আসা বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ির যন্ত্রাংশ কন্টেইনার বন্দরে পড়ে আছে। এগুলো খালাস করতে কেউ আসছে না। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি গাড়ি বিদেশ থেকে এভাবে এনে বৈধভাবে ছাড়িয়ে নিতে হলে গাড়ির দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে বৈধভাবে এসব গাড়ি লন্ডন থেকে আমদানি করার চেয়ে এসব ব্র্যান্ডের গাড়ি নিজ নিজ কোম্পানি থেকে অর্ডার করে আনলে দাম অনেকটা কম পড়ে।

লন্ডন থেকে সড়কপথে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে আসতে সময় লাগে ১৭ থেকে ১৮ দিন। আবার জাহাজের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি ভারতে পাঠিয়ে বিমানপথে গাড়ির মালিক এসে তা নিয়ে এ দেশে আসাও সম্ভব। আর এসব করতে হলে প্রয়োজন হয় সে দেশের কোন পর্যটন ক্লাবের সদস্য হওয়া। এসব ক্লাবের সদস্য হতে পারলে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে ৬ মাসের জন্য বৃটেনের সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ করা সম্ভব। লন্ডনের সঙ্গে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের টুরিস্ট ক্লাবের সংযোগ রয়েছে। আবার ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশেরও টুরিস্ট ক্লাবের সংযোগ রয়েছে।

 




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026