শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশের বর্তমান অচলাবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে ওঠেছে অতিষ্ট। বিশেষ করে চাকুরীজীবি ও স্বল্প আয়ের লোকেরা পড়েছেন বিপাকে। এরই মধ্যে জিনিপত্রের দামে উদ্ধগতি দেখা দিয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) অক্টোবর মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল। পরিসংসখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন,হরতাল,অচলাবস্থার কারণে জিনিষপত্র্রের এই মূল্যবৃদ্ধি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি খানিকটা বেড়েছে, যার কারণ হিসাবে বিরোধী দলের হরতালকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। গত দুই সপ্তাহে তিন দিন করে মোট ছয় দিন হরতালের পর রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা চারদিনের হরতালের মধ্যেই পরিসংসখ্যান ব্যুরোর এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করে মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, মূলত হরতালের প্রভাবেই সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে খাদ্যমূল্য বেড়েছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত খাতে পণ্য ও সেবার মূল্য কিছুটা কমে আসায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ছিল, অক্টোবরে তা ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ হয়েছে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, হরতালে পরিবহন চলে না। সে কারণে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়। ভাড়াও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। সাভার থেকে যে পণ্য ঢাকায় আনতে দুই হাজার টাকা খরচ হতো, হরতালে তা চার হাজার টাকা হয়ে যায়। ব্যুরোর মহাপরিচালক আরো বলে, যদি দেশে রাজনৈতিক পরিস্থতির উন্নতি না হয়, হরতাল চলতেই থাকে। তাহলে দেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যহত হবে। স্বাভাবিকভাবেই চাল, ডালসহ অন্যান্য খাদ্য পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।
এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেকে ব্যবসায়ী হরতালের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে সাহস পান না বলেও উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামীতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি আভাস দেন।