রোববার প্রকাশিত ওই গবেষণার ফল বলছে, লং কোভিড খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এতে ২৩০০ জনেরও বেশি কোভিড রোগির ওপরে গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় জানা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ বেশি। এছাড়া যাদের শরীরে মেদ বেশি তাদের সুস্থ হওয়ার হার অন্যদের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কম।
নতুন এই গবেষণা বলছে, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার এক বছর পরেও বেশিরভাগ মানুষের দেহে নানা উপসর্গ রয়ে যায়। বৃটিশ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া কোভিড রোগিদের ওপরে ওই গবেষণাটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, আক্রান্ত হওয়ার এক বছর পর প্রতি চার জনে মাত্র একজন কোভিড থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে পেরেছেন।
সায়েন্স অ্যালার্ট জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৃটেনের ৩৯টি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া কোভিড রোগিদের উপরে ওই গবেষণা চালানো হয়েছে। এরপর ৮০৭ জনের রিপোর্ট নেয়া হয় পাঁচ মাস এবং এক বছর পরে। এতে দেখা গেছে, পাঁচ মাসে মাত্র ২৬ শতাংশ পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। অপরদিকে এক বছর পরের রিপোর্টে দেখা গেছে এই হার বেড়ে মাত্র ২৮.৯ শতাংশ হয়েছে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাটি।
গবেষণা দলের সদস্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ এন্ড কেয়ার রিসার্চের র্যা চেল ইভানস বলেন, পাঁচ মাস থেকে এক বছর সময়ের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক সমস্যা, বিভিন্ন অঙ্গে অসাড়তা এবং পরিশ্রম করলে দুর্বল হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। যেসব উপসর্গ সবথেকে বেশি দেখা যায় তা হলো, অবসাদ, পেশীতে ব্যাথা, শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া এবং শ্বাসকষ্ট।
উল্লেখ্য, কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেরই পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগে। একে আমরা ‘লং কোভিড’ বলে থাকি। কিন্তু লং কোভিডকে এতদিন যেভাবে দেখা হয়েছিল, আসল পরিস্থিতি তার থেকে অনেক ভয়াবহ।
Leave a Reply