বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্নভাবে চাপে পড়তে পারে, বলা হয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা বলেছে, বাংলাদেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি করছে সরকার। সরকার যদি তাঁদের ওপর হয়রানি অব্যাহত রাখে তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ নানা চাপ আসতে পারে। গতকাল বুধবার পত্রিকাটি তাদের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া,মানবাধিকার কর্মীদের নিপীড়ন বন্ধ করা এবং বিরোধীদলের সঙ্গে মিলে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো, পরামর্শ রাখা হয়েছে সম্পাদকীয়তে। বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য নিউ ইয়র্ক টাইমস শেখ হাসিনাকেই দায়ী করেছে। বছরের শুরুতেই টানা হরতালে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়ে এবং সহিংসতায় শতাধিক নিহত হয়। বিরোধী দলের কয়েকজন প্রধান নেতা এবং মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং মৃত্যুদণ্ডও দিয়েছে। নির্বাচনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করাটি একটি ভুল ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে।

‘পলিটিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন অব্যাহত থাকলে হয়তো দেশটি নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ধরণের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে। এ কারণে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে কাজ করা শেখ হাসিনার জন্য অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্পাদকীয়র শুরুতে বলা হয়, চলতি বছর শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একের পর এক ধর্মঘট বাংলাদেশকে অচল করে রেখেছে এবং রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষের সহিংস সংঘাতে শত শত লোক মারা গেছে। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা ও মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মৌলিক মানকে পাশ কাটিয়ে আদালতগুলো অনেককে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এই সঙ্কটের দায় এখন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরেই আবর্তিত। বিরোধী দলগুলোকে যে কোনো মূল্যে নিষ্ক্রিয় করতে এবং আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারন নির্বাচন নাগাদ ক্ষমতা নিজের হাতে ধরে রাখতে শেখ হাসিনা বদ্ধ পরিকর বলেই মনে হচ্ছে। ২০১১ সালে হাসিনা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের তিন মাস আগে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার বিধান বাতিল করেন। উপরন্তু, তিনি তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি ‘সর্বদলীয় সরকার’ গঠন করেন। এ বিষয়টি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মেনে নেননি।

ইতিমধ্যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন এমন অনেক বাংলাদেশি মনে করেন, জামায়াত বাংলাদেশের ভিত্তির জন্য হুমকি। তবে নির্বাচনে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা দলটির হতাশ কর্মী-সমর্থকদের রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেছে বেছে বিরোধী নেতাদের বিচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার আরেকটি হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026