সুমন আহমেদ: লন্ডন আন্ডরগ্রাউন্ডের ট্রেন চলাচল ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন লন্ডন মেয়র বরিস জনসন। পরিবর্তনের অংশ হিসেবে শুক্র ও শনিবার ২৪ ঘন্টা আন্ডারগ্রাউন্ড খোলা থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডন আন্ডারগ্রান্ডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টার মাইক ব্রাউন ও লন্ডন মেয়র বরিস জনসন লন্ডন আন্ডারগ্রান্ড প্রতি শুক্রবার ও শনিবার ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
এই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৫ সাল থেকে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার পুরো ২৪ ঘন্টাই আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন চলাচল করবে। মূলত লন্ডনের ক্লাব ও পাব ও ব্যস্ততম সন্ধ্যাকালীন দোকানের ব্যবসাগুলোকে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ করতে নেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। অন্যদিকে আন্ডারগ্রাউন্ডের সকল টিকেট অফিস বন্ধ খাকবে বলে জানিয়েছেন্ লন্ডনের বহুল আলোচিত এই মেয়র। এর ফলে চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ৭৫০ জন কর্মী। ২৪ ঘন্টার ট্রেন চলাচলের সংবাদকে সবাই স্বাগত জানালেও টিকেট অফিস বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ জনগণ।
আন্ডাগ্রাউন্ড ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুসংবাদ বয়ে আনলেও দু:সংবাদ আসছে কর্মরত আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মচারীদের জন্য। কারণ সবগুলো টিকেট স্ট্রেশনের কাউন্টার বন্ধ করা হবে বলে জানানা লন্ডন মেয়র বরিস জনসন। এরই পরিবর্তনে প্রায় ৯৫০ জন কর্মচারী তাদের চাকরি হারাবেন। তবে তাদের মধ্যে থেকে ২০০জনকে রাতের বেলা ট্রেন চলাচলের সময় কাজে লাগানো হবে। বাকি ৭৫০জন তাদের চাকরি নির্গাত হারাবেন। এর ফলে টিএফএল এর বছরে প্রায় ৫০মিলিয়ন সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়কৃত এই অর্থ টিএফএল এর আন্ডারগ্রাউন্ডের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানায় টিএফএল।
যদিও ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় সময় লন্ডন মেয়র বরিস জনসন আন্ডারগ্রাউন্ডের টিকিটি অফিস বন্ধের সমালোচনা করেছিলেন। তবে মেয়র নির্বাচিত হবার দুই বছর পর তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন। ভবিষ্যতে স্টেশনগুলোতে মাত্র একজন স্টাফের মাধ্যেমে স্টেশনগুলোতে সেবাদানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনার করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েস্টমিনিস্টারে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে প্রতিবন্ধী লোকজন। এদিকে ক্রিসমাসের আগে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটে নামতে পারে শ্রমিক ইউনিয়ন।