শীর্ষবিন্দু নিউজ: গাজীপুরের কোনাবাড়িতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের পোশাক কারখানার আগুন ১১ ঘণ্টার চেষ্টার পরও পুরোপুরি নেভাতে পারেনি অগ্নিনির্বাপক বাহিনী। রপ্তানির জন্য মালবোঝাই সাতটিসহ ১৮টি কভার্ড ভ্যানও পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা। কারখানা কর্তৃপক্ষও এ ঘটনার জন্য বহিরাগত শ্রমিকদের দায়ী করেছে।
এ সময় পুলিশের গুলিতে দুই শ্রমিক নিহতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে কয়েক হাজার লোক জড়ো করা হয় স্ট্যান্ডার্ড কারখানার বাইরে। রাত ১২টার দিকে তারা কারখানা চত্বরে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং ভবনে আগুন দিয়ে সরে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেডের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।
ওই চত্বরের ছয় তলা দুটি ভবন এবং পাশের দুটি প্যাকেজিং শেডের আগুন শেষ রাতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও শুক্রবার সকাল ১১টার পরও ১০ তলা মূল ভবনে আগুন জ্বলছিল বলে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবু জাফর আহমেদ জানান। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা বলছেন, প্রতিটি ভবনেই আলাদাভাবে আগুন দেয়া হয়। ১০ তলা ভবনের তিনতলায় আগুন দেয়ার পর তা ছড়িয়ে পড়ে। আর পাশের ৬ তলা একটি ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জামের গুদামে আগুন লাগার পর অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গভীর রাতে আগুনের ভয়াবহতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ‘বহিরাগত কিছু শ্রমিক’ বিক্ষোভ করতে করতে এসে স্ট্যান্ডার্ড কারখানার কর্মীদের বেরিয়ে আসতে বলে এবং তাদের সঙ্গে যোগ দিতে বলে।কিন্তু স্ট্যান্ডার্ডের কর্মীরা তাতে সাড়া না দিলে বহিরাগতরা বাইরে থেকে ঢিল ছুড়ে চলে যায়। রাত ১০টার দিকে নিরাপত্তারক্ষীদের পালাবদলের সময় আবারো কিছু বহিরাগত শ্রমিক এসে স্ট্যান্ডার্ড কারখানার বাইরে থেকে ঢিল ছুড়তে শুরু করলে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয় বলে মহাব্যবস্থাপক নূর ই আলম জানান। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমাযুন কবির জানান, গত ১৭ নভেম্বর বিকালে শ্রমিকরা স্ট্যান্ডার্ড কারখানার পাশে জরুন রোডের ছোট-বড় অর্ধশতাধিক দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। পরে তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. কাউসারের বাড়িসহ আশপাশের আরো তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছিল। এতে ওইসময় কমপক্ষে ৬০টির মতো ঘর পুড়ে যায়। কারখানার মহা ব্যবস্থাপক নূর ই আলম জানান, কারখানা চত্বরে থাকা ১৮টি কভার্ড ভ্যানও হামলাকারীরা পুড়িয়ে দিয়ে যায়, যার মধ্যে সাতটিতে রপ্তানির জন্য পোশাক বোঝাই করা ছিল।