মোস্তাক আহমেদ: লন্ডনসহ ইউকের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে মুসলিমদেরজন্য কবর স্থানের জায়গা। আগামী বারো বছরের মধ্যে লন্ডনে কবরস্থানের জায়গা পুরিয়ে যাবে। তাই এখন থেকে কবর স্থানের নতুন জায়গা বরাদ্দের আইন পরিবর্তনের জন্য জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা। বর্তমানের আইন অনুযায়ী ৭৫ বছরের পুরনো কবরকে দ্বিতীয়বার ব্যাবহার করা যায় না।
লন্ডনে ৭০ শতাংশ দাহ করা হয়। আর দাফন করা হয় মাত্র ৩০ শতাংশ। আর জন্য বছরে লন্ডনে ১০ হাজারের কবর স্থানের প্রয়োজন। ধর্মীয়ভাবে দাফনের জন্য লন্ডনে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কবরস্থানের চাহিদা। ফলে আগামী বারো বছরের মধ্যে লন্ডনে কবরস্থানের সংখ্যা ফুরিয়ে যাবে বলে সম্প্রতি এক গবেষনায় উঠে এসেছে। শুধু লন্ডনেই নয় আগামী পাচ থেকে বিশ বছরে লন্ডনে মতো ইউকের প্রায় ৩৫৮টি স্থানীয় কতৃপক্ষ বলছে যে, তাদেরও ফুরিয়ে যাবে কবর স্থানের জায়গা।
লন্ডনে বিভিন্ন ভাষাভাষি শ্রেনীর মুসলিম জনগোষ্টির জন্য মাত্র দুটি কবর স্থান রয়েছে। তার মধ্যে একটি ওয়ালথাম ফরেষ্টে যা শুধু মাত্র ঔই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এবং অন্যটি হলো গার্ডেন অব পিস। বিত্তবান মুসলিমরা চাইলেই এখানে সমাহিত হতে পারবেন। তবে তা কিনতে হবে সমাধিস্থত হওয়ার আগে। তাৎক্ষনিক প্রয়োজন বোধে কেনার চেয়ে আগে কিনে রেখে দিলে অনেক খরচ কম পড়ে বলে জানান কতৃপক্ষ।
লন্ডনের হেইনল্টে অবস্থিত গার্ডেন অব পিস এর বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ ওমর জানান, তারা সরকারকে চাপ দিচ্ছেন দুই দিক দিয়ে। যার মধ্যে প্রথম হলো তারা সুবিধামতো কবর স্থানের জায়গা দেয়ার জন্য। দ্বিতীয় হলো, অনেক আগে করা আইন যা ৭৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় কবরের জন্য ব্যবহার করা যাবে না তা পরিবর্তন আনতে। যাতে বর্তমান সংকটে থাকা লোকজন তাদের আত্নীয়স্বজনকে কবর দিতে একই জায়গা পূনরায় ব্যবহার করতে পারেন।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী,পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৫ বছরের মধ্যে কোন কবর দ্বিতীয়বার ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। এখন জনমনে প্রশ্ন হচ্ছে ইসলাম ধর্মে কি এ রকম কোন বাধ্যবাধকতা আছে কি না?
এ বিষয়ে ইস্ট লন্ডন মসজিদের খতিব শায়েখ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ইসলামে আসলে এ রকম কোন ঠিক নির্দেশনা নেই। যা আছে তা হলো যতদিন পর্যন্ত একজন লাশের শরীরের পুরো অংশ হারিয়ে যায় নি। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এতে হয়তো কয়েক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। একটা লাশের মাংসগুলো পচে গেলে শুধু হাড়গুলো থাকে। তখন শরীয়তে বলা আছে, পুনরায় কবর ব্যবহার করা যাবে। যা ঠিক একইভাবে মক্কা ও মদিনায়ও কবর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা শায়ক আব্দুল কাইয়ুম।