শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দক্ষিন আফ্রিকার অবিসংবাদিক এই মহান নেতার অবিস্মরণীয় জীবনের প্রশস্তিতে নেচে-গেয়ে উদযাপনের মধ্যেই অনেকের মনে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে দেশটির শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ, ধনী-গরীব নির্বিশেষে সব নাগরিক ঐক্যবদ্ধভাবে শোক পালন করছে। তারা মনে করছেন, বর্ণবাদবিরোধী এই নায়কের মৃত্যুতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আবার বর্ণবাদ ও সামাজিক অস্থিরতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ঘোষণা করেন, ম্যান্ডেলার শেষকৃত্য ১৫ ডিসেম্বর দেশের পূর্বাঞ্চলীয় অন্তরীপে ম্যান্ডেলার পারিবারিক বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে । এ সময় তিনি ম্যান্ডেলার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানসূচিও ঘোষণা করেন। ১০ ডিসেম্বর জোহানেসবার্গের সিটি ফুটবল স্টেডিয়ামে প্রবাদপ্রতীম এই নেতার স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোকা পালন করা হবে। ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশের প্রশাসনিক রাজধানী প্রিটোরিয়ার ইউনিয়ন ভবনে ম্যান্ডেলার মরদেহ রাখা হবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালনকালে এই ভবনটিই ব্যবহার করেছিলেন ম্যান্ডেলা। এই দিনগুলোতে দেশের প্রত্যেকটি প্রদেশ ও অঞ্চলেও মহান নেতার স্মরণে রাষ্ট্রীয় স্মরণানুষ্ঠান চলবে বলে ঘোষণা করেছেন জুমা।
এরপর রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে ম্যান্ডেলাকে তার পারিবারিক গ্রাম পূর্বাঞ্চলীয় অন্তরীপের কুনুতে সমাহিত করা হবে। স্থানটি জোহানেসবার্গ থেকে ৭শ’ কিলোমিটার দক্ষিণে। এখানে ম্যান্ডেলা পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে নেলসন ম্যান্ডেলার প্রয়াত তিন সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজনের সমাধি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জুমার ঘোষণা থেকেই তার দেশের মানুষ দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ম্যান্ডেলার প্রয়াণের কথা জানতে পারে।
দীর্ঘ রোগ ভোগের পর ওই দিন রাত ৮টা ৫০ মিনিটে জোহানেসবার্গে নিজ পরিবারের সদস্যদের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৫ বছর বয়সী ম্যান্ডেলা। শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ কোটি ২০ লাখ মানুষ পুরোপুরি বুঝতে পারে তাদের জাতীয় নেতা, পুর্নমিলন ও শান্তিতে সহাবস্থানের বিশ্বপ্রতীকে পরিণত হওয়া মানুষটি চিরদিনের মতো তাদের ছেড়ে চলে গেছেন।