শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশের মানুষের কাছে‘গ্রহণযোগ্য হয় এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ তৈরির জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় আসতে না পারায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
জেন সাকি বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এমন একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার সুযোগ নেবে বলেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র হাতাশার সঙ্গে দেখল, তেমন একটি নির্বাচন আয়োজনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি, বরং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসন থেকে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বীহীন।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। তবে পরে নির্বাচনের জন্য আরো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পর্যবেক্ষক পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি। তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বর্জনের কারণে একক প্রার্থী থাকায় ১৫৪টি আসনের ফল আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সে অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে ১৪৬টি আসনে।
এদিকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি ও শরিকরা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ছুটির দিনগুলো ছাড়া প্রতিদিন সারা দেশে অবরোধ চালিয়ে আসছে। সহিংসতায় এর মধ্যেই আশি জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে বা বোমা বিস্ফোরণে মারা গেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করে দুই প্রধান দলকে সংলাপে বসিয়ে তা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা ছাড়েন। কিন্তু দুই দলের নেতাদের মধ্যে পরে দুদফায় বৈঠক হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) জানিয়ে দেয়, তারা এবার বাংলাদেশে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না।