শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ওবামাসহ তিন নেতার সেই আলোচিত ছবি । এএফপিবর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার স্মরণসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর স্বভাবসুলভ একটি হূদয়গ্রাহী বক্তব্য দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু তিনি একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ছবি তোলার কারণে সমালোচিত হচ্ছেন।
অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ওই ‘সেলফি’ ছবিতে (কথ্য শব্দ, যার অর্থ ক্যামেরা বা মুঠোফোনে তোলা নিজের ছবি) ওবামা, ডেভিড ক্যামেরন ও হেলে-থর্নিং-স্মিডটের হাসিমুখের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। এই তিন নেতা সোয়েটোর এফএনবি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্মিডট তাঁর নিজের স্মার্টফোনে তিনজনের ছবিটি তোলেন। ওবামা এ সময় ফোনটি ধরে রেখে তাঁকে সাহায্য করেন। হালকাচালের ওই মুহূর্তের ছবি এএফপির আলোকচিত্রী রবার্টো স্মিডটের ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায়। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাও পাশেই ছিলেন। কিন্তু তিনি স্বামীর সঙ্গে ওই সম্মিলিত হাসিতে যোগ না দিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেখানে ম্যান্ডেলার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছিলেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারা।
স্মরণসভার মতো একটি অনুষ্ঠানের শোকাবহ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বিশ্বনেতাদের এ রকম চটুল আচরণে মেতে ওঠার বিষয়টি অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটু লেগেছে। ছবিটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টুইটার-ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস ছবিটির ব্যাপারে নীরব রয়েছে। লন্ডন ও কোপেনহেগেন থেকেও কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মুঠোফোনের ব্যাপক প্রসারে নিজের তোলা নিজের ছবি ‘সেলফি’ বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শব্দটিকে এ বছরের সেরা নতুন শব্দ হিসেবে নির্বাচিত করেছে অক্সফোর্ড অভিধান কর্তৃপক্ষ। আলোচিত ছবিটির আলোকচিত্রী রবার্টো স্মিডট বলেন, রাজনীতিবিদদের এ রকম একটি ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে দেখার বিষয়টি বেশ মজার। তবে একজন ব্যতিক্রমী মানুষের স্মরণসভায় ছবিটির বৈশ্বিক প্রভাব হয়তো অনুষ্ঠানের মূল চেতনাকে আড়াল করে ফেলতে পারে। এএফপি।