বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬

লন্ডনের সোনালী ব্যাংককে ৩৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা

লন্ডনের সোনালী ব্যাংককে ৩৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সোনালী ব্যাংককে ৩৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে বৃটেনে। একই সঙ্গে নতুন কোনো কাস্টমারের কাছ থেকে ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো অর্থ জমা নিতে পারবে না এ ব্যাংক।

এক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ব্যাংকটির বৃটেনের কর্মকান্ডের ওপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা স্টিভেন স্মিথকে ব্যাংক খাতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, তিনি ব্যাংকিং খাতে একই রকম চাকরি করতে পারবেন না।একই সঙ্গে তাকে ১৭ হাজার ৯০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। এসব খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়েছে, দ্য ফিনান্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) বলেছে, সোনালী ব্যাংকের বৃটিশ অপারেশন অর্থ পাচার রোধ করা বিষয়ক নিয়মকানুন রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তবে তারা বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবে। এটাই তাদের মূল কর্মকান্ড। এর ওপর ওই নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্লেখ্য, বৃটেনে সোনালী ব্যাংকের তিনটি শাখা আছে। এগুলো হলো লন্ডন, বার্মিংহাম ও ব্রাডফোর্ডে। সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এগুলো কাজ করে।

কিন্তু এফসিএ’র এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১০ সালে একবার রেগুলেটরি থেকে এ ব্যা ংককে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা অর্থ পাচার যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রেগুলেটর থেকে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ২০শে আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২১শে জুলাই সময়ের মধ্যে অর্থ পাচার রোধ বিষয়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে সোনালী ব্যাংক।

এফসিএ’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির সিনিয়র ব্যবস্থাপনা টিম, অর্থ পাচার বিষয়ক রিপোর্টের কার্যকারিতা, শাখাগুলোতে নজরদারি সহ প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থ পাচার বিরোধী সব পর্যায়ে ধরা পড়েছে মারাত্মক ও সিস্টেমিক দুর্বলতা।

এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি অপারেশন বা পরিচালনা বিষয়ক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কাস্টমারদের প্রতি নিরলস প্রচেষ্টা, তাদের পরিচিতি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্ব, অর্থ লেনদেন, কাস্টমারের ওপর মনিটরিং, সন্দেহজনক কর্মকান্ডের বিষয়ে রিপোর্টিংয়ে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

তবে সবচেয়ে খারাপ যে বিষয়টি ঘটেছে তা হলো, একজন কাস্টমারের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য প্রতারণার একটি অভিযোগ কমপক্ষে ৭ সপ্তাহ পর্যন্ত এফসিএ’কে জানায় নি ব্যাংকটি। অর্থ পাচার বিরোধী নিয়ম কানুন গুরুত্বের জন্য না নেয়ায় ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদ ও সিনিয়র ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করা হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকটির অর্থ পাচার বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা স্টিফেন স্মিথকে ব্যক্তিগতভাবে ১৭ হাজার ৯০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।

দেখা গেছে ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ অডিটে যে সতর্কতা দেয়া হয়েছিল সে বিষয়ে দায়িত্ব নেয়ার কথা স্টিফেন স্মিথের। কিন্তু রেগুলেটর দেখতে পেয়েছে তিনি তা আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, ব্যাংক কর্মকর্তারা অর্থ পাচার রোধের বিষয়ে কি করতে হবে তা তিনি তাদের জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ ও সিনিয়র ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, ব্যাংকে অর্থ পাচার রোধ ঠিকঠাক মতো কাজ করছে। আসলে বাস্তবে তা উল্টো। তিনি অধিক স্টাফ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

গত ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে, তারা ব্যবসায়ী নন এমন আর কোনো কাস্টমার নেয়া বন্ধ করে দেবে। এ বছরের শেষ নাগাদ শুধু দুটি শাখা কার্যকর থাকবে।

রেগুলেটর বলেছে, অর্থ পাচার রোধের বিষয়টি উন্নত করতে সম্মত হয়েছে ব্যাংক। এক্ষেত্রে নতুন সিনিয়র স্টাফ নেয়া হবে। বাইরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়া হবে। স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বৃটেনে কর্মকান্ড শুরু করার অনুমতি পায় সোনালী ব্যাংক।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025