শুভাশিস ব্যানার্জি শুভ: জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস ঘোষণা করে ১৯৭২ সালে।
এ
ই দিবস ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নে সমস্যাবলী ও এর সমাধানের নিমিত্তে আর্ন্তজাতিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি জনমতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা (সিদ্ধান্ত ৩০৩৮/২৭)। উলে¬খ্য যে, এই দিনই বিশ্ব জাতিসংঘ দিবস। জাতিসংঘ নীতিগতভাবে জাতিসংঘ দিবসকেই উন্নয়ন তথ্য দিবস হিসেবে গ্রহণ করেছে, কারণ ১৯৭০ সালের ২০ অক্টোবরই জাতিসংঘ ২য় উন্নয়ন দশকের জন্য আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন কৌশল গৃহীত হয়।
সাধারণ অধিবেশনের উপলদ্ধি এই যে, সর্বত্র বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তথ্য প্রচার, জনমত সৃষ্টি, উন্নয়ণ সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং উন্নয়ন সমস্যা সমাধানে আর্ন্তজাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র সংঘাতের ভয়াবহতা ও বেদনাময় স্মৃতির প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। আর্ন্তজাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বেশির ভাগ কার্যক্রম বিস্তৃত। অনেকের-ই ভূল ধারণা আছে যে জাতিসংঘ শুধু শান্তিরক্ষার কাজে নিযোজিত।
অথচ আজকের দিনে জাতিসংঘের অধিকাংশ তৎপরতা উন্নয়ন ও মানবিক সহযোগিতার কাজে নিবেদিত। পৃথিবীর প্রায় ১৩৫টি দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রতি বছর আড়াই হাজার কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল যুগিয়ে থাকে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ উন্নয়নশীল দেশের অধিবাসী। আর তাই জাতিসংঘের বেশির ভাগ কাজ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
কেননা, এসব দেশের মানুষ অভাব-অনটন, ক্ষুধা, অশিক্ষা, রোগ-শোক ইত্যাদি ঝামেলার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে। জন্মলগ্ন থেকেই জাতিসংঘ তার সনদের ৫৫ ধারার অর্থাৎ উচ্চমানের জীবন যাপন নিশ্চিত করা, বেকার সমস্যা দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। জাতিসংঘ সহায়তা করে এসেছে গরীব দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য।
১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশসমূহের সাহায্যে নেয়া বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য সাধারণ পরিষদ পর পর চারটি জাতিসংঘ উন্নয়ন দশকের কথা ঘোষণা করেছে। ষাটের দশকের শুরু থেকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুষম উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ উন্নয়ন প্রসারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে। এই উন্নয়ন প্রয়াস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিফলিত হয় ১৯৬৯ সালে, সমাজ প্রগতি ও উন্নয়ন প্রসংগে দেয়া সাধারণ পরিষদের ঘোষণার মধ্যে দিয়ে।
এই ঘোষণায় বলা হয়, সকলের জন্য কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং সম্মিলিতভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উৎপাদনশীল কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা, বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও চাকরির মনোন্নয়ন, সকলের জন্য কাজের সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা, স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করা ও নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা। কোন ধরনের ভেদাভেদ ছাড়া শ্রমের ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা প্রভৃতি।
জাতিসংঘের ঘোষিত প্রথম উন্নয়ন দশক ছিল ১৯৬১-১৯৭০। দ্বিতীয় দশক ঘোষণা করা হয় ১৯৭০-১৯৮০। দ্বিতীয় দশকের উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল ন্যায়পরায়ণতা ও সমতার ভিত্তিতে আর্ন্তজাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিমূল সমতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, অভিন্ন স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নির্বিশেষে রাষ্ট্রে সহযোগিতা যা নির্মূল করবে অসমতা অন্যায়, দূর করবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ব্যবধান।
বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সংন্থার সহযোগিতায় জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে জাতিসংঘ ব্যবস্থার ১১টি মিশন বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত আছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্ব ব্যাংক ও আই এম এফ এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমান বিজ্ঞানের আর্শীবাদপুষ্ট এই প্রযুক্তির তথ্য নির্ভর যুগে বিশ্বের সার্বিক উন্নয়নে তথ্য দিবস পালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সংগতি রেখে আমাদের দেশেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হয়, গ্রহণ করা হয় নানান কর্মসূচি।
জাতিসংঘ সর্ম্পকিত যাবতীয় তথ্যাদি সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করা-ই দিবসটি পালনের মূল উপাত্ত।