শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ইইউ গণভোটের এক মাস আগে বিনিয়োগকারী ব্যাংকারদের সঙ্গে এক বৈঠকে তেরেসা মে ব্যক্তিগতভাবে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে ইউরোপ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিলে দেশ থেকে ব্যাবসা প্র
তিষ্ঠানগুলো চলে যাবে। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে বলা তার ওই মন্তব্যের রেকর্ডিং এসেছে বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের হাতে।
ফাঁস হওয়া এ রেকর্ডিং থেকে জানা যাচ্ছে যে, বৃটেনের ইইউ ত্যাগ নিয়ে অনেক উদ্বেগ ছিল তার। ২৬শে মে লন্ডনে ওই ব্যাংকে কথা বলার সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মে ইইউতে থাকার অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
তিনি এও বলেছিলেন, ইউরোপে বৃটেনের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করার সময় এসেছে। ভোটাররা অতীতের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যতের দিকে দেখবে এমন আশা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। ব্যাংকারদের সঙ্গে এক ঘণ্টার ওই আলোচনায় তিনি বৃটিশ অর্থনীতিতে ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি অর্থনৈতিক যুক্তিগুলো স্পষ্ট। আমার বিবেচনায় ৫০০ মিলিয়ন বানিজ্যিক ব্লকের অংশ হওয়াটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমনটা কিছুক্ষণ আগে বলছিলাম, অন্যতম একটা ইস্যু হলো অনেকে এখানে বিনিয়োগ করবে কেননা ইউকে ইউরোপের একটা অংশ।
আমরা যদি ইউরোপে না থাকতাম তাহলে আমি মনে করি প্রতিষ্ঠানগুলো ভাবতো তারা কি ইউরোপে তাদের অবস্থান গড়ে তুলবে নাকি ইউকেতে। কাজেই আমি মনে কি অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সুনির্দিষ্ট নানা সুবিধা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তেরেসার মে’র করা মন্তব্যের সঙ্গে ওই মন্তব্যগুলোর অনেক ফারাক। কনজারভেটিভ পার্টির কনফারেন্সে মে বলেছিলেন, তিনি সিঙ্গেল মার্কেটের অংশ হওয়ার তুলনায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিতে চান। তার বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘সিঙ্গেল মার্কেটে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে বৃটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে। তবে সেটা অভিবাসন নিয়ে ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়। বা, লুক্সেমবার্গের বিচারকদের রায় মেনে নিয়ে নয়।’
ওদিকে, গোল্ডম্যান স্যাকসে মে বলেছিলেন, ইউরোপে থাকলেই বৃটেনের নিরাপত্তা সবথেকে বেশি ভালো থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
গণভোটের এক মাস আগের এসব মন্তব্য ফাঁস হওয়াটা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে। গণভোট প্রচারণার সময় ততটা সক্রিয় ভূমিকা না পালন করায় সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়ে বৃটেন তাদের চাওয়া স্পষ্ট করেছে। আর এই সরকার সেটাকে সফল করার জন্য সংকল্পবদ্ধ।