আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ রোববার ভারতে আসছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এ সফরে বাণিজ্য, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধি করার বিষয়টি থাকলেও এর ওপর ছায়া ফেলবে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আপত্তির কথা। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য টেলিগ্রাফ।
এ
তে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই হচ্ছে তেরেসা মে’র প্রথম ভারত সফর। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা কড়াকড়ি করেছে বৃটেন। এ বিষয়টি তেরেসা মের সামনে তুলে ধরার কথা রয়েছে ভারতীয় মন্ত্রীদের। ভারতে এ নিয়ে ক্ষোভ আছে।
বলা হয়, তেরেসা মে যখন বৃটিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তখন বৃটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অর্ধেক। এ নিয়ে ভারতে চাপা একটি ক্ষোভ আছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভারতের এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হবে তেরেসা মে ও তার সফরসঙ্গীদের কাছে।
ওই মুখপাত্র আরও বলেছেন, মবৃটেনে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যেসব জটিল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন তা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে উদ্বেগ তুলে ধরেছি। আমরা আশা করছি এই সফরের সময়ে আমরা এ বিষয়ে গতিশীলতার ইস্যুটি তুলে ধরবো।
তবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীরা বলেছেন, গত বছর অভিবাসী ছাত্রদের বিষয়ে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল সেখান থেকে সরকারের ফিরে আসার কোনো লক্ষণ নেই। এজন্য ব্রেক্সিট ভোটের পর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বৃটিশ সরকার নতুন করে যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সে উদ্যোগে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। ভারত সফরে তেরেসা মের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকার কথা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী ণিয়াম ফক্স, বাণিজ্যমন্ত্রী গ্রেগ হ্যান্ডস সহ ৪০ জন প্রতিনিধি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে তার এ সফরের সময় যুক্তরাজ্য ও ভারতের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মধ্যম মানের বাণিজ্যকে উন্নত করার চেষ্টা করবেন। নজর দেবেন প্রযুক্তি খাতেও। উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রযুক্তি বিষয়ক এক সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে তেরেসা মে’র। এতে উপস্থিত থাকার কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ওইদিন বিকালেই এ দু’নেতার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ আলোচনায় উঠে আসবে ভিসা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিভিন্ন ইস্যু।
উল্লেখ্য, তেরেসা মে গত বছর থেকে স্টুডেন্টস ভিসার আইন কানুন কড়াকড়ি করেন। এর অধীনে বলা হয় বিদেশী ছাত্রের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করা ও যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য তারা কতদিন থাকতে পারবে। এর ফলে বৃটেনে দ্রুত ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে। ভারত সরকার এ সপ্তাহে বলেছে, এ ইস্যুটি তুলে ধরা হবে তেরেসা মের কাছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, স্টুডেন্টস ভিসা নিয়ে যতটা উদ্বেগ রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে বলা যায় গত বছরে বৃটেনে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ পড়ে যায়। এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে নেমে দাঁড়ায় ২০ হাজার। বৃটেনে পড়ালেখার পরে কত সময় থাকা যাবে সে ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে। তারই প্রেক্ষিতে এমনটা ঘটেছে।
ওই মমুখপাত্র আরও বলেন, ভারতীয় শিক্ষার্থ, পিপিল-টু-পিপল সম্পর্ক হলো ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৃটেনে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে আমরা সেসব বিষয় তুলে ধরেছি বৃটেনের কাছে। আশা করছি তেরেসা মের এই সফরের সময় এক্ষেত্রে গতি আসবে।
অন্যদিকে বৃটিশ সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট। আমাদের লক্ষ্য হলো, মেধাবী ও সবচেয়ে ভাল শিক্ষার্থীদের অভিবাসনের মাধ্যমে এনে এখানকার শিক্ষা সুবিধা দেয়া। এক্ষেত্রে অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ভিসা পয়েন্ট। নয়াদিল্লি সফরের পর তেরেসা মের যাওয়ার কথা রয়েছে ব্যাঙ্গালোরে। সেখানে তিনি বৃটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন।
বৃটিশ সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের ট্রেড মিশন অন্য সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ, ভারতের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী। ব্রেক্সিট ভোটের পর এখানে তাদের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের যেসব অচলাবস্থা রয়েছে তা তুলে দেয়া হোক। তারা আশা করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার আগেই কিভাবে তারা ভারতে গ্রাউন্ডওয়ার্ক করতে পারবেন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা।
তারা বলেন, আমাদের মধ্যকার ব্যবধান কাটিয়ে উছে আমরা বাণিজ্যে আরও উচ্চাকাঙ্খী হয়ে উঠতে চাই। এবং সেটা ইউরোপের বাইরে।