অন্যকিছু ডেস্ক: মাথার সব চুল পেকে সাদা। চামড়ায় বয়সের ভাঁজ। দৃষ্টির তীক্ষ্ণতাও কমে এসেছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে দেহ। তবে নুয়ে পড়েনি ইচ্ছাশক্তি।
তাই প্রতিদিন সকাল হলেই বই-খাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। খুদে সহপাঠীদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিদ্যালয়ের পথ ধরেন। বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এবড়োখেবড়ো পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যান। পাঁচ বছর ধরে তিনি এভাবেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। তবে শিক্ষকের স্থানে নয়, তিনি বসেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে।
এ
ছাত্রীর নাম বাছিরন নেছা, বয়স ৬৩ বছর। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, এ বয়সে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে তার রোল ৪। প্রথম শ্রেণি থেকে ক্রমান্বয়ে পাস করে তিনি ৫ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন।
মোছা. বাছিরন নেছা এভাবেই বার্ধক্যকে জয় করে জ্ঞানের আলো ধারণ করছেন। তাঁর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া গ্রামে মাঠপাড়ায়। গ্রামের পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তিনি।
সাধারণ আর দশজন নারী এমন বয়সে নাতি-নাতনির সঙ্গে ঘরে শুয়ে-বসেই সময় কাটান। কিন্তু বাছিরন ব্যতিক্রম, এই বয়সে তিনি প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন সহপাঠীদের সঙ্গে।
বাছিরন জানান, তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ৩৫ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাদের লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। ছেলে-মেয়েরাও লেখাপড়ায় অনীহা দেখালে প্রাথমিক পর্যায় থেকে তাদের বিয়ে দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালউদ্দীন আহমেদ জানান, নাছিরন নেছা এ বছর পিএসসি পরীক্ষার্থী। তার আগ্রহ দেখে স্কুলে ভর্তি করেছি। তিনি এলাকার নিরক্ষর মানুষের জন্য একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়।
[youtube id=”OG6FmaWLlD0″ width=”600″ height=”350″]