শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ব্রেক্সিট বিরোধী স্ত্রীর টুইটকে কেন্দ্র করে বৃটিশ সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারকের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। তিনি হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লর্ড নুবারর্গার অব অ্যাবোটসবারি। তার স্ত্রী লেডি নুবারর্গারের ওই টুইটের কারণে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ব্রেক্সিটপন্থিরা।
উল্লেখ্য, এ মাসেই পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যক্রম শুরুর বিরুদ্ধে রায় দেয় বৃটিশ হাই কোর্ট। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এর শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ৫ই ডিসেম্বর। যে আদালতে শুনানি হবে তার বিচারক হলেন লর্ড নুবারর্গার। তিনি তার স্ত্রী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন এমন অভিযোগে ওই আদালত থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
এতে বলা হয়, ব্রেক্সিটপন্থি এমপিরা দাবি করছেন নিজের স্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কাছে তিনি পরাস্ত হতে পারেন। তাই এমপিরা তার পদত্যাগ দাবি করেন। এক্ষেত্রে তারা সুপ্রিম কোর্টের আচরণবিধির একটি অংশ তুলে ধরেছেন। ওই অংশে বিচারকদের সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের ঘনিষ্ঠজনদের রাজনৈতিক কর্মকা-ে বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হতে পারে।
কিন্তু লর্ড নুবারর্গারের স্ত্রী লেডি নুবারর্গার, যার ডাকনাম অ্যাঙ্গেলা হোল্ডসওয়ার্থ, তিনি ব্রেক্সিট গণভোটকে ‘ম্যাড অ্যান্ড ব্যাড’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন টুইটে। এছাড়া তিনি এ ভোটকে ¯্রফে প্রতিবাদের ভোট বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া লিসবন চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করতে পারবেন না এমন রায় তার পছন্দ হয়েছে এমনটা ইঙ্গিত করে আরও টুইট করেছেন লেডি নুবারর্গার।
রোমফোর্ডের কনজার্ভেটিভ দলীয় এমপি অ্যানড্রিউ রোজিন্ডেল বলেছেন, আদালতে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ একটি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এমন আচরণ সুপ্রিম কোর্টের জন্য বিব্রতকর। তার স্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি অবিবেচক। অবশ্যই এ অবস্থান তার জন্য সমঝোতামুলক।
নর্থ ওয়েস্ট লেস্টারশায়ার থেকে নির্বাচিত কনজার্ভেটিভ দলের এমপি অ্যানড্রিউ ব্রিজেন বলেছেন, যেহেতু দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও পক্ষপাতহীন একটি রায় আসার কথা রয়েছে ব্রেক্সিট ইস্যুতে, তাই লর্ড নুবারর্গারের উচিত পদত্যাগ করা।
কিন্তু ওই বিচারকের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের মতে, এমন অভিযোগ রাবিশ। তারা নিয়ম ভঙ্গ করেন নি এ বিষয়ে তারা একেবারেই আস্থাশীল। তারা বলেছেন, এ মামলাটি পুরোপুরিই আইনের ওপর ভিত্তি করে চলবে। এক্ষেত্রে লেডি নুবারর্গারের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছু এসে যায় না।