অন্যকিছু ডেস্ক: মৃত্যুর পর পরিবারই সাধারণত শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করে। তবে কানাডায় ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা।
জিম্মি কিখাম নামে এক ব্যক্তি নিজের কবর খুঁড়েছেন। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে একটু একটু করে তিনি এই কবর খুঁড়েছেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তার ৯০তম জন্মবার্ষিকী ছিল।
ক
বর খোঁড়ার অনুভূতি জানতে চাইলে স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমিই সম্ভবত কানাডাই প্রথম যে নিজেই নিজের কবর খুঁড়লাম। এই কাজে আমার পরিবারও আমাকে সহায়তা করেছে। আমি এতে গর্বিত।’
কিখাম একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। প্রায় ৬০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় খোঁড়াখুঁড়ি কাজে বলা যায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞও বটে।
‘আমি খুঁড়তে ভালোবসি। আমি সবসময়ই টাকার জন্য কাজ করে এসেছি। এটা দেখার বিষয় না যে, ওরা আমাকে কী খোঁড়াতে চায়।’ নিজের কর্ম সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন তিনি।
কবর খোঁড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ভেবেছিলাম আমি যদি ৯০ বছর বেঁচে থাকি তবে আমি নিজের কবর খুঁড়ব।’
স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, কিখাম যখন কবর খুঁড়ে তখন তার সাত সন্তানই সেসব দেখেছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে পুরো পরিবারই তার সঙ্গে ছিল। তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় কবরস্থানে যেতেন, কিছুক্ষণ কবরে কাজ করে আবার ফিরে আসতেন।
কিখাম জানান, ‘এটা একদিক দিয়ে ভালো যে তার শেষকৃত্যের জন্য অন্য কাউকে ডাকতে হলো না। আমিই আমার কবর খুঁড়ে রাখলাম। আমি খুব খুশি যে আমার পরিবার এতে আপত্তি করেনি।’
কিখামের ছেলে জানায়, কবর খোঁড়ার পর এখন একটা পাতলা লেয়ার দিয়ে সেটাকে ঢেকে রেখেছেন কিখাম। এরপর একটা পাইন বক্স কবরের ফুটোতে রাখেন। যখন প্রয়োজন হবে, পাতলা লেয়ারটা সরিয়ে ফেলা হবে বলে তার বাবা পরিকল্পনা করেছেন। বাবার এই কাজটার সঙ্গে থাকতে পেরে তিনিও দারুণ উচ্ছসিত।
কিখাম এখনো কর্মক্ষম মানুষ। দ্রুত এই কবর প্রয়োজন হবে না বলেই ধারণা করছে তার পরিবার। ‘তবে অসময় তো বলে কয়ে আসে না’ বলেই হেসে উঠলেন কিখাম।