শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত নাইজেল ফারাজকে ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে তিনি দ্বিতীয়বার ফোন করেছেন ট্রাম্পকে।
তে
রেসা মের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলেছেন, এই ফোনকলে কোনে ‘এফ-ওয়ার্ড’ ব্যবহার করা হয় নি। এখানে এফ-ওয়ার্ড বলতে ফারাজে বিষয়ক কথাবার্তাকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন এক্সপ্রেস।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইউকিপ নেতা নাইজেল ফারাজে প্রথম বৃটিশ রাজনীতিক হিসেবে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ফিরে তিনি তেরেসা মে সরকারের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক স্থাপন ঘটিয়ে দেয়ার অনুঘটক নিজেকে প্রস্তাব করেন।
জানান দেন, তিনি বৃটিশ পার্লামেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। কিন্তু তেরেসা মের সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে সাফ জানিয়ে দেয়, নাইজেল ফারাজে সরকারের অংশ নন। তিনি কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হতে পারেন না।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার জন্য নাইজেল ফারাজের জন্য রয়েছে ‘নো ভ্যাকেন্সি’। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই।
বৃটিশ সরকার এমনটা বললে কি! এরই মধ্যে ট্রাম্পের মন জয় করে নিয়েছেন ফারাজে। তাই তার হয়ে একটি টুইট করেন ডনাল্ড ট্রাম্প । তাতে তিনি নাইজেল ফারাজেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৃটেনের রাষ্ট্রদূত দেখার আকাঙ্খা প্রকাশ করেন।
বলেন, নাইজেল ফারাজে যুক্তরাষ্ট্রে বৃটেনের জন্য একজন ‘গ্রেট’ রাষ্ট্রদূত হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে আরও একবার ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফারাজে।
কিন্তু ট্রাম্প-ফারাজে একসঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে থাকলেও তাতে সম্মতি মিলছে না তেরেসা মের। এ নিয়ে বৃটিশ রাজনীতিতে তোলপাড় চলে। ক্ষমতাসীনদের ভিতর থেকে অনেকে নাইজেল ফারাজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেন।
কিন্তু তাকে ছাড়াই ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছেন তেরেসা মে। এ জন্যই তিনি মঙ্গলবার দ্বিতীয়বার ফোন করেন ট্রাম্পকে। এ ফোন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছেন, এ সময় দু’নেতা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা ও নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছেন। তারা নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেছেন।
এতে দু’নেতা একমত হয়েছেন যে, ন্যাটোভুক্ত আরও সদস্য রাষ্ট্রকে তাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা কমপক্ষে ২ ভাগ দিতে হবে প্রতিরক্ষা খাতে। এর আগে ২২শে নভেম্বর বিকালে প্রথমবার দু’নেতা ফোনে আলোচনা করেন।
এ সম্পর্কে তখন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন। তাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটা করা হয়েছিল।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তারা আলোচনা করেন। ক্ষমতার মেয়াদে তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা নিয়েও কথা বলেন। বড়দিনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে দু’দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের একটি আলোচনার বিষয়েও কথা বলেন তারা।