বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯

পরিবারবিহীন একাকিত্বে ভুগছিলেন বিখ্যাত খল অভিনেতা ওম পুরী: পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে

পরিবারবিহীন একাকিত্বে ভুগছিলেন বিখ্যাত খল অভিনেতা ওম পুরী: পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার সকালেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ওম পুরী। বলিউডের বিখ্যাত খল এই অভিনেতা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ায়র পর বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, হৃদরোগে কারণেই ৬৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুর বছরখানেক আগেই স্ত্রী নন্দিতার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল ওম পুরীর।

গত বছর থেকে কিংবদন্তি এ অভিনেতা একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন। এর ফলে বরাবর ভালো থাকার অভিনয় করলেও মনে চাপা কষ্ট নিয়েই বেঁচেছিলেন ওম পুরী। কিন্তু একাকিত্বের এ যন্ত্রণা কিছুতেই সহ্য করতে পারেননি তিনি। প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরকে ছেড়ে ১৯৯৩ সালে ওম পুরী বিয়ে করেছিলেন নন্দিতাকে। ওম পুরী তখন ৪৩ বছরে। এ সংসারে ঈশান নামে একটি ছেলেও রয়েছে।

কিন্তু এ নন্দিতাই ২০১৩ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এমনকি, অভিযোগপত্রে নন্দিতা দাবি করেছিলেন, ওম পুরী রোজ তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। শুধু তাই নয়, গলাটিপে হত্যারও চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল ওম পুরীকে আদালতে গিয়ে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামিন নিতে হয়েছিল।

এরপর দীর্ঘদিন নিজের খুব ঘনিষ্ঠজন ছাড়া কারোর সঙ্গে দেখাও করতেন না ওম পুরী। ছবির কাজ প্রায় থামিয়ে দেয়ার উপক্রম করেছিলেন। কিন্তু, প্রথম স্ত্রী সীমা কাপুরের সাহায্যে ফের মূলস্রোতে ফেরার চেষ্টা করেন ওম পুরী। এই সময়ে ফের সরব হয়েছিলেন নন্দিতা। অভিযোগ তোলেন প্রথম স্ত্রী সীমার পরামর্শেই ওম তার উপরে অত্যাচার করতেন। সীমা ষড়যন্ত্র করে নন্দিতাকে ওমের জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। নন্দিতার এই অভিযোগে পাল্টা মুখ খুলেছিলেন সীমা।

জানিয়েছিলেন, ওমের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও দু’জনের মধ্যে অপার বন্ধুত্বটা রয়ে গিয়েছিল। তিনি ভেঙে পড়া ওমকে বন্ধু হিসেবে সাহায্য করেছিলেন। ওম পুরীও নন্দিতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, নন্দিতা যদি বুঝতেই পারেন সব ঘটনার পেছনে সীমা রয়েছে তাহলে তিনি কেন বাড়িতে ফিরে আসছেন না?

কেন তার জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন নন্দিতা? এতকিছুর পরেও কোথাও যেন একটা তাল কেটে গিয়েছিল ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তির। মন-মেজাজ ভাল থাকত না আর।

যে ওম জীবনটাকে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতায় কাটাতে ভালোবাসতেন সেই ওম পুরী কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে সবার কাছ থেকে দূরে সরে গেলেন তিনি। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

ওম পুরীর দীর্ঘ দিনের বন্ধু পরিচালক অশোক পণ্ডিত সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ওম পুরি।

ওম পুরি ভারতের পাঞ্জাবের পাতিয়ালার একটি হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রেলওয়ে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।ওম পুরি পুনের ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার একজন প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন; যেখানে অপর আরেক খ্যাতনামা অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ্ তার সহ-পাঠি ছিলেন।

মূলধারার বলিউড সিনেমার পাশাপাশি পাকিস্তানি, ব্রিটিশ এবং হলিউডের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পদ্মশ্রী পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

১৯৫০ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে নন্দিতা পুরিকে বিয়ে করেন ওম। ২০১৩ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ইহসান নামে তাদের একটি ছেলে রয়েছে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অন্তত ১০টি পুরস্কার জিতেছেন তিনি; যার মধ্যে সেরা অভিনেতার পুরস্কারও।বলিউডের পাশাপাশি বহু বিদেশি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন ওম পুরি। পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কারও।বর্ষীয়ান এই অভিনেতা খল চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026