সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যেগে অমর একুশের তা্ৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যেগে অমর একুশের তা্ৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অমর একুশের আলোচনা ও আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হলো রোববার সন্ধ্যায়। বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্টান শুরুর করা থাকলেও অনুষ্ঠান মূলত: শুরু হয় সন্ধ্যার পর।

অনুষ্টানে একুশের আলোচনা হলেও বারবার উঠে আসে বিলেতে বাংলা সংবাদপত্রের বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা, টানাপড়েনসহ নানান সমস্যার কথা। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিলেতের বাংলা সংবাদপত্রের সাংবাদিক, ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক ও অন্যান্য অতিথিদের আগমনে প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠান ছিল মুখরিত। কবিতা-ছড়া ও সমসমায়িক বক্তব্যে জমিয়ে রাখেন আমত্রিত অতিথিরা।

প্রেসক্লাবের একুশের আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বিবিসি বাংলার সাবেক সম্পাদক কামাল আহমদ। দুই নির্ধারিত আলোচক ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার এবং চ্যানেল এস টেলিভিশিনের হেড অব প্রোগ্রামস ফারহান মাসুদ খান। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা পরিচালনায় ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জুবায়ের।

কবিতা আবৃত্তি করেন- শহিদুল ইসলাম সাগর, জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, শাহিন আলম, তাওহিদ শাকিলসহ আরো অনেকে। এছাড়া বক্তব্যে রাখেন বিলেতের সাংবাদিকদগণ সহ সাহিত্যিক ও লেখক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখন বাংলা চর্চার সাথে বাধাহীনভাবে মিশেল হচ্ছে ইংরেজি ও সেই সাথে যোগ হয়েছে হিন্দী শব্দের অনুপ্রবেশ। এটা আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, যে কোন ভাষায় অন্য ভাষার শব্দ যোগ হতে পারে, ব্যবহৃত হতে পারে, এটা ভাষার বহমান প্রকৃতির সাথে সাযুজ্যপূর্ণ। কিন্তু সেটা মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞা থেকে হওয়া উচিত নয়, তেমনটা হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একুশের গানের প্রণেথা বলেন, আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারী তৎকালীন ঢাকায় নূর আলম সাহেব তখন পালিয়ে যান ছাত্রদের ভয়ে। সলিমুল্লাহ হল ছিল হেড কোয়ার্টার। তখন তারা ভাংতে না পেরে পাঞ্জাবীদের দিয়ে ঘিরে ফেলে। তৎকালিন ভাইস চ্যান্সেলার, শিক্ষক এবং ছাত্ররা তখন সলিমুল্লাহ হলের সামনে দাড়িয়ে বলেছিলো, আগে আমাদের গুলি কর। তারপর তোমরা হলে ডুকবে। তখন সেনাবাহিনী ডুকতে পারেনি। সেদিনই ভাষা আন্দোলনের একটা বড় বিজয় হয়। সেদিক থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারী একটা অত্যন্ত উল্লেখ্যযোগ্য একটা দিন। যা ২১শে ফেব্রুয়ারী থেকে কম নয়।

রবিবার সন্ধ্যায় মহান একুশে উপলক্ষে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বিলেতের বাংলা ভাষার প্রচার এবং সংবাদ পত্রের কথা বলতে গিয়ে বলেন, বিলেতে বাংলা পত্রিকা যে বেঁচে আছে তা বিস্ময় ব্যাপার। কারন বিলেতে শিক্ষিত লোকেরা আসে ৮০ দশকে!

তারপর থেকে বাংলা পত্রিকার বিকাশ ঘটে। মূলত পুরুষের চাইতে মহিলারা পত্রিকা পড়েন বেশি। আগে পত্রিকা পড়তেন বড়রা। তারা দেশের খবর নিতেন। আর এখন পত্রিকা পড়ে অল্প শিক্ষিত মেয়েরা। বর্তমান শিক্ষিতরা বাংলা পত্রিকা পড়ায় আগ্রহী নয়। তিনি আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেন, এই অল্প শিক্ষিত মেয়েরা জনমত, সুরমা, পত্রিকা পড়ে। দিনে দিনে তাদের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় তিনি ব্রিটেনে বাংলা সংবাদ পত্রকাগুলির পাঠক জনপ্রিয়তা লাভ করতে না পারার নানান কারন তুলে ধরেন এবং শিক্ষিত লোকের চাইতে অল্পশিক্ষিত মহিলারা পত্রিকা বেশি পড়েন বলে মনে করেন। বাংলা কাগজগুলিতে চিত্তের খোড়াক বলতে কিছু নেই। স্পোটস নেই। যে কাগজগুলি বেচে আছে এখন তারা পত্রিকাগুলিতে শুধু বিএনপি আওয়ামীলীগের খবর থাকে। এখানকার নতুন প্রজন্মের খবর খুবই কম থাকে। এ কারনে তারা বাংলা পত্রিকায় অনাগ্রহী।

আপনারা কাগজে লিখেন, এখানকার কমিউনিটি সম্পর্কে, ব্রেক্সিট সম্পর্কে। এজন্য কমিউনিট কতটা বেনিফিটেট হবে তার কোনও বিশেষন নাই। কেন তারা এই কাগজ পড়বে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বিলেতে কাগজগুলোকে বাচিয়ে রাখতে হলে দুটো কাজ হতে পারে। প্রথমত: কাগজগুলি মার্চ করতে পারে। যেমন কিছু কাগজগুলি বা ‍টেলিভিশনগুলি তাদের মধ্যে মার্চ করেছে। যেভাবে করেছে ব্রিটিশ মূলধারার গণমাধ্যমগুলি।

দ্বিতীয়ত: এখানে অনেকগুলি সংগঠন আছে, তারা সবাই মিলে যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, বাধ্যতামূলকভাবে তারা বাংলা কাগজগুলিকে বিজ্ঞাপন দেবে। আর কাগজগুলা ঐক্যবদ্ধ্যভাবে যদি এই ব্যবস্থা করে। আর ট্রেনিং দিয়ে রিপোর্টার তৈরীসহ আধুনিকতায় সার্কুলেশন বাড়ায়। যেমন শুধু লন্ডন বা বার্মিংহামে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ইউরোপগুড়ে এর প্রসার বাড়ায়। তাহলে আজকের বাংলা কাগজগুলি বেছে থাকবে।

এদিকে তিনি বাংলাদেশে বাংলা সংস্কৃতির পরিবর্তে বিদেশী সংস্কৃতি বিশেষ করে হিন্দি সংস্কৃতির আগ্রাসনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে এখন বেশিরভাগ মানুষ বাংলা নাটকের পরিবর্তে হিন্দী সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত।

তিনি বলেন, বাংলা ভাষার জন্য ২৪ বছর যুদ্ধ করতে হয়েছে সেখানে হিন্দী বিনাযুদ্ধে বাংলা ভাষা গ্রাস করছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষায় সংস্কার আনতে হবে। ইংরেজরা তাদের ভাষায় ১৮ বার সংস্কার করেছে। আর তাই এখন বিশ্বের জনপ্রিয় ভাষা ইংরেজী।

তিনি বাংলা বানানের নানান অসংগতি তিনি তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসে নতুন প্রজন্মের উপযোগী বাংলা বইয়ের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশের অন্যভাষা প্রীতিরও তীব্র সমালোচনা করে বলেন বাঙালীরা ঈদের দিনে পায়জামা পড়ে একবার মুসলমান হয় আর ২১ ফেব্রুয়ারীর দিনে বাঙালী হয়।

তিনি বলেন, আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন শহরে শহীদ মিনার হচ্ছে। ব্রিটেনের অল্ডহামে হয়েছে, রোমে হয়েছে, বোস্টনেও সুন্দর একটা শহীর মিনার হয়েছে। ঢাকায় এবার দেখলাম শহীদ মিনার সংস্কার করা হচ্ছে। শহীদর ভাঙ্গা হয়ে যায়। মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা এসে এটি আবার পূন:নির্মাণ করে যান।

২১শে ফেব্রুয়ারী এলে শহীদ মিনার পরিস্কার সংস্কার শুরু হয়। বছরে একবার আমার বাঙ্গালী হয়ে যাই। ভাষার কোন উন্নতি হয় না। শুধু শহীদ মিনার সংস্কার করা হয়। কিন্তু অরিজিনালি যে শহীদ মিনার ছিল সেচা কিন্তুু তৈরী হয়নি। অরিজিনাল শহীদ মিনার তৈরী করেছিলেন যে কয়েকজন তাদের মধ্যে লবেরা আহমদও ছিলেন।

তাতে এই শহীদ মিনারের সঙ্গে একটা পাঠাগার, একটা মিউজিয়াম, এটা ওয়ার্কশপ এসব যুক্ত ছিল। এবং অনেক বড় করে করার কথা ছিল। ১৯৫৪ সালে বদরুল হক সাহেব যখর আসেন চিফ মিনিস্টার হয়ে তখন এই শহীদ মিনার আবার সরকারীভাবে করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যেটা হবার সেটা আপনারা দেখেছেন। পরবর্তীতে সেটা বরখাস্ত হয়ে যায়। আর তৈরী হয়নি। এখন অর্ধ নির্মিত মিনার দাড়িয়ে আছে। প্লান অনুযায়ী পুরো শহীদ মিনার নিমার্ণ করা হয়নি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026