শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯

চীনের বিরল সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া

চীনের বিরল সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, বেইজিং সম্পর্কের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করছে।

রাষ্ট্রীয় পত্রিকা রোডং সিনমুনের এক মন্তব্য কলামে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া নিজেদের পরমাণু প্রকল্প থেকে সরবে না। এই কলামে অভিযোগ করা হয়, চীন মার্কিন সুরে কথা বলছে। আর এভাবে কোরিয়ান উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার অজুহাত পেয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

ওই কলামে চীনের শাসক দলের মুখপাত্র বলে পরিচিত দুই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকা পিপল’স ডেইলি ও গ্লোবাল টাইমসের প্রতি দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

খবরে বলা হয়, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যমগুলোকে উত্তর কোরিয়ার সমালোচনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অঞ্চলেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়ায় এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে।

সিএনএন’র খবরে বলা হয়, রোডং সিনমুন পত্রিকার ওই কলামে বিশেষভাবে সমালোচনা করা হয়েছে চীনা মিডিয়ায় উত্তর কোরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ বৃদ্ধি করার আহ্বান নিয়ে। কলামে বলা হয়, আমরা চীনের সঙ্গে সম্পর্কের রেড লাইন অতিক্রম করিনি। বরং, চীন খুব সহিংস ও ক্রুদ্ধভাবে পা ফেলে এগিয়ে আসছে ও কোন দ্বিধা ছাড়া এই লাইন অতিক্রম করছে।

দুই পত্রিকার সমালোচনা করে কলামে বলা হয়, ‘এই দুই পত্রিকা বলছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রকল্প চীনের জন্যও হুমকি। তারা এমনকি হাস্যকর কথা বলেছে যে, উত্তর কোরিয়া নাকি উত্তরপূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার অজুহাত তুলে দিচ্ছে।’

কিম চল নামে এক লেখকের ওই মন্তব্য কলামে দাবি করা হয়, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রকল্প শুধুমাত্র বৈদেশিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য। আর উত্তেজনা নিরসনে পিয়ংইয়ং এটি বাতিল করবে না।

কলামে আরও বলা হয়, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে উত্তর কোরিয়া কখনও কাকুতি মিনতি করবে না। এই বন্ধুত্ব যতই মূল্যবান হোক, নিজেদের পারমাণবিক প্রকল্পকে কখনই ঝুঁকিতে ফেলবে না উত্তর কোরিয়া, কারণ এটি তার নিজের জীবনের জন্য বহুমূল্য এক জিনিস।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত হুমকি নিয়ে উত্তর কোরিয়াকে চিন্তিত দেখাচ্ছে। বোস্টন কলেজের অধ্যাপক ও চীন নীতি বিশেষজ্ঞ রবার্ট রস বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পকে দেখছে বল প্রয়োগে বেশি আগ্রহী প্রেসিডেন্ট হিসেবে। চীনা নীতি আমেরিকান নীতিকে উৎসাহিত করছে। আর তাই উত্তর কোরিয়াকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলছে।

কাউন্সিন অন ফরেইন রিলেশন্স-এর কোরিয়া স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো স্কটইডার বলেন, এই কলাম একটি পরোক্ষ প্রমাণ যে, বেইজিং আসলেই উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। তবে তিনি এ-ও বলেন, ওয়াশিংটন যা চায়, অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের অবসান, তা হয়তো এই চাপের মাধ্যমে অর্জিত হবে না।

এদিকে চীনের গ্লোবাল টাইমস পত্রিকায় উত্তর কোরিয়ার রোডং সিনমুনে প্রকাশিত ওই কলামের কড়া জবাব দিয়ে পালটা নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ওই নিবন্ধে বলা হয়, (রোডং সিনমুনে প্রকাশিত) ওই কলাম অতিমাত্রায়-আক্রমণাত্মক নিবন্ধ ব্যাতিত কিছুই নয়, যেটি জাতীয়তাবাদী আবেগে পরিপূর্ণ।

নিশ্চিতভাবেই পিয়ংইয়ং তাদের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে কিছু অযৌক্তিক যুক্তি আঁকড়ে আছে।’ তবে ওই নিবন্ধে ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষা না চালানোয় কিছুটা প্রশংসাও করা হয় উত্তর কোরিয়ার।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026