শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে ফ্রান্সে। দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফায় সেখানে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন মধ্যপন্থি এমানুয়েল ম্যাক্রন ও উগ্রপন্থি ম্যারিন লা পেন।
দে
শের বাইরে অবস্থানরত ফরাসিরা আগেভাগেই ভোট দেয়া শুরু করলেও স্থানীয়ভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৮ টায়। শেষ হওয়ার কথা রয়েছে রাত ৭ টায়। নানা কারণে এবারের নির্বাচন ফ্রান্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে এ নির্বাচনেই একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
কারণ, ম্যারিন লা পেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে তিনি বৃটেনের মতো ফ্রান্সকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার জন্য গণভোট দেবেন। তার দেশে বাতিল করবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন মুদ্রা ইউরো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি লা পেন নির্বাচিত হন এবং তার ফলে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায় তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের টিকে থাকাই দায় হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে মধ্যপন্থি ম্যাক্রন ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি। তাকে দেখা হয় উদারপন্থি হিসেবেও।
তিনি নির্বাচিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়তো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য এ নির্বাচন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পুরো ইউরোপ। অন্যদিকে ম্যারিন লা পেন অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন।
তিনি সরাসরি মুসলিম বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। তবে দু’প্রার্থীই সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এখন বাংলাদেশের স্থানীয় সময় আজ রোববার মধ্যরাতের দিকে নির্বাচনে ফল ঘোষণা শুরু হতে পারে। অনলাইন বিবিসি লিখেছে, গত ২৩ শে এপ্রিল প্রথম দফা নির্বাচন হয় ফ্রান্সে। তাতে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ছিলেন ১১ জন।
কিন্তু ভোটাররা ওই ভোটে মূল ধারার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে বেছে নিয়েছেন রাজনীতিতে নবাগত দুই তরুণ প্রার্থী ম্যাক্রন ও লা পেনকে। তাদের মধ্যেই আজ মূল লড়াই হচ্ছে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা ম্যাক্রন যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে তার থেকে ২৫ বছরের বড়, তার সাবেক শিক্ষিকা পরবর্তীতে স্ত্রী ব্রিজিত (৬৪) হবেন ফ্রান্সের ফার্স্টলেডি। এত বয়সের ব্যবধানে কোনো ফার্স্টলেডি প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত এলিসি প্রাসাদে প্রবেশ করেছেন কিনা তা জানা নেই।
তা ছাড়া তার মতো এত বেশি বয়সে ফার্স্টলেডি হওয়ার নজিরও বিরল। ওদিকে যদি ম্যারিন লা পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে তিনিই হবেন ফ্রান্সের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। এখন কে হন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, আর কে রেকর্ড স্থাপন করেন তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে প্রায় বেশ কয়েক ঘন্টা।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে যে ঘটনা ঘটেছিল ফ্রান্সেও তাই ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগে হিলারি ক্লিনটন তথা ডেমোক্রেটদের ইমেইল হ্যাক করে রাশিয়া। তাতে সেখানকার নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
ফ্রান্সের নির্বাচনেরও প্রায় দু’দিন আগে ম্যাক্রন শিবিরের ইমেইল হ্যাক হয়েছে। এবারও আঙ্গুল তোলা হয়েছে রাশিয়ার দিকে। তবে ফ্রান্সে এ নিয়ে রিপোর্ট করতে বারণ করা হয়েছে। কারণ, এতে নির্বাচনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ম্যাক্রনই বিজয়ী হতে পারেন বলে আভাস মিলছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভোটদানে উপস্থিতির হার কম হয় তাহলে ম্যাক্রন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।