সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫

শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের টিকিট সংকটে ভোগান্তি

শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের টিকিট সংকটে ভোগান্তি

এম ইদ্রিস আলী: শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন। পর্যটন এলাকায় অন্যতম এক আধুনিক রেলস্টেশন। এ স্টেশন দিয়ে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর উপজেলার মানুষজনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা যাতায়াত করে থাকেন।

বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। সে কারণে এ স্টেশনে প্রায়ই টিকিট সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী সাধারণের। তাছাড়া দেশের অন্যান্য রুটের তুলনায় সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনের মান খারাপের বিষয়টিও সিলেটবাসীর বহুদিনের। এর সঙ্গে অন্যান্য রুটের ভাড়ার হারের তুলনায় সিলেটবাসী প্রতি টিকিটের ভাড়ার মূল্যও গুনতে হয় অনেক বেশি।

এসব অভিযোগ সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের। তবে দীর্ঘদিনের চলে আসা টিকিট সংকটের ফলে সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে স্বল্প সংখ্যক টিকিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাও চাহিদার তুলনায় নগণ্য। ফলে টিকিট সংকট এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শ্রীমঙ্গল হতে ঢাকাগামী কালনী ট্রেনে শোভন চেয়ার বরাদ্দ রয়েছে ২০টি, শোভন ২৫টি, প্রথম শ্রেণির চেয়ার রয়েছে ৬টি। ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনের শোভন চেয়ার বরাদ্দ রয়েছে ২০টি, শোভন ২০টি, প্রথম শ্রেণির চেয়ার ১০টি ও এসি কেবিন ৯টি। ঢাকাগামী পারাবত ট্রেনের শোভন চেয়ার রয়েছে ৬০টি, শোভন নেই, এসি কেবিন ১৫টি ও এসি চেয়ার ৩০টি।

ঢাকাগামী উপবন ট্রেনের শ্লিপার বাথ ৬টি, শোভন চেয়ার ২০টি, শোভন ৩০টি ও প্রথম শ্রেণির চেয়ার ৫টি। শ্রীমঙ্গল থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ট্রেনের এসি চেয়ার নতুন বরাদ্দ এসেছে ৪টি, শোভন ৩০টি, লাকসাম ৫টি ও ফেনী ৫টি, চট্টগ্রামগামী উদয়ন ট্রেনের শুধু শোভন চেয়ার ৩০টি, কুমিল্লা ৫টি ও লাকসাম ৫টি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার ইকবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে বৃহত্তর সিলেটবাসীর ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও বার বার সিলেটবাসী উন্নতমানের ট্রেনের সেবা থেকে অবহেলিত ও বঞ্চিত থেকে যায়। অন্যান্য রুটের ভাড়ার চাইতেও সিলেটের যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়। এটিও সিলেটবাসীর সঙ্গে এক ধরনের বৈষ্যম্যমূলক আচরণ।

এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, ‘সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মান ও সেবা দেশের অন্যান্য রুটে চলাচলকারী ট্রেনের চাইতে একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ের। বিশেষ করে ট্রেনের টিকিট সমস্যা ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি টিকিট যা বাড়ানো হয়েছে তাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল’।

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শ্রীমঙ্গল একটি পর্যটন এলাকা। সে কারণে এ স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় অনেক বেশি। টিকিট সংকটের কারণে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বাদানুবাদ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ‘চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা ও উদয়ন ট্রেনে শোভন চেয়ার কমপক্ষে আরো ৩০টি করে বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকাগামী কালনী ট্রেনের শোভন চেয়ার ৩০টিসহ পুনরায় ট্রেনটিতে এসি কোচ সংযোজন করে ২০টি এসি চেয়ার বরাদ্দ প্রয়োজন। তাছাড়া ঢাকাগামী উপবন ট্রেনের শোভন চেয়ার ২০টি, এসি চেয়ার ৫টি ও ঢাকাগামী জয়ন্তিকা ট্রেনের আরো ১০টি এসি কোচ বরাদ্দের প্রয়োজন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026