শীর্ষবিন্দু নিউজ: যুক্তরাজ্যে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
আগা
মী ৮ জুন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষণার আগেই দলটির ইশতেহারের একটি খসড়া ফাঁস হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শিল্পের অংশবিশেষ জাতীয়করণ করা এবং টিউশন ফি কমানোর মতো নানা প্রস্তাবনার উল্লেখ ছিল।
ওই খসড়া ফাঁসের কয়েকদিনের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেনিফেস্টো প্রকাশ করে দলটি। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন দলটির নেতৃত্বে একটি প্রত্যাশিত সরকার গঠনের লক্ষ্যে তার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। এতে তিনি একটি মৌলিক ও দায়িত্বশীল পরিকল্পনার কথা বলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রেক্সিট বিলের পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়ন নির্ধারণ করেছে বলে ফিনান্সিয়াল টাইমসে একটি খবর প্রকাশের পর ডেভিস এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘বাধ্যবাধকতাগুলোকে’ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে।
তবে এক্ষেত্রে কী পরিমাণ বিল ধরা হয়েছে তা তারা দেখেননি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুব তোয়াক্কা না করার আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আইটিভির গুড মর্নিং ব্রিটেন অনুষ্ঠানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডেভিস।
লেবার পার্টির নির্বাচনি ইশতেহারকে অবাস্তব আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি। তবে লেবার পার্টি বলছে, থেরেসা মে সরকারের মানুষকে ভয় দেখানোর যে নির্বাচনি প্রচারণা কৌশল (ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা) তার একটি শক্তিশালী বিকল্প উত্থাপন করেছে লেবার পার্টি।
মঙ্গলবার ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে জেরেমি করবিন বলেন, মানুষ চান দেশ হবে অধিকাংশ মানুষের জন্য; গুটিকতকের জন্য নয়। গত সাত বছর ধরে দেশের মানুষ এর বিপরীতটা দেখে আসছেন। এটা ছিল ধনী ও অভিজাতদের একটি ব্রিটেন। আগামী পাঁচ বছরে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এসবের আমূল পরিবর্তন সাধন করা।
এদিকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে কেউ কেউ চায় না ব্রেক্সিট আলোচনা সফল হোক।
ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্রেক্সিট নিয়ে কথা বলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৮ জুনের নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন; তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের জন্য সর্বোত্তম চুক্তি করতে তাকে নিরলস কাজ করে যেতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি এটাকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে না পারি, তাহলে এর পরিণাম হবে গুরুতর।
অন্যদিকে ইইউ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে আসার সময় ‘ডিভোর্স বিল’ অর্থাৎ ‘বিচ্ছেদসংক্রান্ত খরচ’ বাবদ ১০০ বিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন থেরেসা মে প্রশাসনের ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইনসম্মতভাবে যতটুকু পরিশোধ করা প্রয়োজন, যুক্তরাজ্য কেবল ওই পরিমাণ অর্থই পরিশোধ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চাহিদামাফিক অর্থ যুক্তরাজ্য পরিশোধ করবে না।
[youtube id=”klCTYurF_Fc” width=”600″ height=”350″]