মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭

গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে লাশ শনাক্ত সম্ভব নয়: মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে লাশ শনাক্ত সম্ভব নয়: মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডনের সদ্য ট্রাজেডি ওয়েস্ট লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এবং অগ্নিকাণ্ডের শিকার হওয়া অনেকের পরিচয় হয়তো কখনই শনাক্ত করা যাবে না বলে বলছে লন্ডন মেট পুলিশ।

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাঙালী এক পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ রয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে হয়ত তারাও করুন পরিনতি শিকার হয়েছেন। তৃতীয় দিনের মতো পোড়া ২৪ তলা ভবনটিতে লাশের সন্ধানে নামবেন। এখন পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার গ্রেনফেল টাওয়ার ভবন পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তেরেজা মে। এ সময় তিনি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার পূর্ণ সরকারি তদন্তের নির্দেশ দেন। ২৪ তলা ওই ভবনে লাগা আগুনে এ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কন্ডি বলেছেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন শুরু করেছে। পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত করে দেখা হবে ভবন নির্মান, ডিজাইন বা আগুনের জন্য কোন ব্যক্তির দায় আছে কিনা।

ধারণা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে শতাধিক হতে পারে। কারণ, উপর তলার কেউই নিচে নামতে পারেননি। আর উদ্ধারকারীরাও ঝুকিপূর্ণ সেসব স্থানে এখনও উদ্ধারকাজ চালাতে পারেননি। শতাধিক মানুষ অগ্নিকান্ডের সময় সেখানে ছিলেন। এদের কেউই জীবিত নেই বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

 এদিকে ঘটনাস্থলে গেলেও বেচে যাওয়া মানুষজন ও হতাহতদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা না করায় সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী মে। তবে তিনি বলেছেন, এই অগ্নিকা- অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছে। যেগুলোর উত্তর প্রয়োজন।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেছেন, এখন পর্যন্ত ৬ জনের লাশ শনাক্ত করা গেছে। কিন্তু এমনও সম্ভাবনা আছে যে, আমরা হয়তো সব লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারবো না।

ধারণা করা হচ্ছে, ভবনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বৃষ্টিরোধী প্রলেপ ব্যবহার করায় আগুণ দ্রুত ছড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও আগুণরোধী প্রলেপ ব্যবহার করা যেত। এদিকে যুক্তরাজ্যের বহু বাড়িঘরে ন্যুনতম অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও বৃটিশ সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি, এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়েও চাপে আছে সরকার।

বিরোধী নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এটি কর্পোরেট হত্যাযজ্ঞ। তিনি হতাহতদের দূরে কোথাও পাঠানোর বদলে লন্ডন শহরের খালি ফ্ল্যাটগুলোতে পুনর্বাসনের কথা বলেছেন।

বিবিসি জানায়, বুধবার মধ্যরাতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় ভবনটিতে কয়েকশত লোক ছিল বলে বোঝা গেছে এবং তাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিল। আবাসিক ওই টাওয়ারটিতে ১২০টির মতো ফ্ল্যাট ছিল। ঘটনার একদিন পরও আগুন লাগার কারণ বের করা যায়নি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজদের ছবি পোস্ট করে তাদের খোঁজ পেলে জানানোর জন্য আবেদন করছে স্বজনরা। প্রধানমন্ত্রী মে বলেছেন, আগুন কেন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল তা জানার অধিকার মানুষের আছে। তদন্ত থেকেই তারা তা জানতে পারবে। মে এর আগে কিছু সময়ের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি জানান, জরুরি সেবাদন কর্মীরা তাকে বলেছে যে, আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভবনকে গ্রাস করেছে তা ভয়াবহ এবং অপ্রত্যাশিত।

মিসেস মে বলেন, অগ্নিকান্ড নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং পুলিশ যে তদন্ত চালাবে তার পাশাপাশি বিষয়টি আরও ভালভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের একটি পূর্ণ সরকারি তদন্ত করে দেখাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং কমিউনিটি নেতাদেরকে বলেছেন, সত্য বেরিয়ে আসবে।

সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের প্রধানরা বলে দিয়েছেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা তারা আর করছেন না। প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026