শীর্ষবিন্দু নিউজ: ক্রমান্বয়ে লন্ডন শহর একটা ভুতুড়ে শহরে পরিণত হচ্ছে। কখনো লেগে শত শত লোক মারা যাচ্ছে। কখনো সন্ত্রাসী হামলায় বোমায় লোকজন মারা যাচ্ছে।
আর এবার দ্বিতীয়বারের মতো লন্ডনে প্রচন্ড দাঙ্গার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইস্ট লন্ডনে ফরেস্ট গেট এলাকার এক সন্তানের জনক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে লন্ডন রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছিল রোববার।
রোববার বিকেল থেকে স্টার্টফোর্ড থেকে ইলফোর্ড এর রাস্তা কয়েক দফায় বন্ধ ছিল। লন্ডনে ফরেস্ট পুলিম স্টেশন এর সামনে মেইন রাস্তায় রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে দেখাগেছে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক-যুবতীদের। রাতভর চলে এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা টায়ারসহ বিভিন্ন জিনিস পত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। ফলে আসপাশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে টিল ছুড়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এতে ৬ পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ৪জনকে আটক করেছে।
বিক্ষোভাকারীদের অভিযোগ ২৫ বছর বয়সী এডিয়ার ফ্রেডেরিকো ডা কোস্টাকে এ মাসের ১৫ জুন তার গাড়ী থেকে গ্রেফতার করে এবং নিষ্টুরভাবে পিটিয়ে আহত করা হয় ফরেস্ট গেইট পুলিশ স্টেশন। আটকের ৬দিন পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, উত্তেজনা কমাতে সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলার চেস্টা করলে, কয়েকজন প্রতিবাদকারী পুলিশের সামনে গিয়ে মটর সাইকেলের ধুয়া দিয়ে তাদের উত্তেজিত করার চেস্টা করে। বিক্ষোভাকারীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়।
কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের হত্যার বিচার চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক-যুবতিসহ প্রতিবেশীরা বিক্ষোভ চালিয়ে গেলে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃস্টি হয়। পুলিশ তাদের কোন মতেই সরাতে পারেনি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব থাকায় অনেকে বেড়াতে যেতে বা ফিরতে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।
অবশ্য কৃষ্ণাঙ্গ যুবকতে হত্যার অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে পুলিশ। তারা বলেছে এই ঘটনার পরবর্তীতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কোন মন্তব্য করিতে রাজি নয় তারা।
এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একজন এশিয়ান মসুলিম বয়স্ক লোক কৃষ্ণাঙ্গ এক যুবককে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তাদের বিক্ষোভের ফলে রাস্তায় লোকজনদের কষ্ট হচ্ছে। ঐ বৃদ্ধ ব্যাক্তি কৃষ্ণাঙ্গ এক যুবককে বুক জড়িয়ে ধরছেন আর অনুরোধ করছেন সেখান থেকে সরে যেতে। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ ঐ যুবককে সাথে থাকা আরো যুবতীসহ অনেকে মানতে নারাজ। তারা বলছে, বিচার না পেয়ে তারা রাস্তা থেকে সরবে না।