শীর্ষবিন্দু নিউজ: পশ্চিম লন্ডনের গ্রিনফল টাওয়ার ট্রাজেডির কথা জানেন না এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই ট্রাজেডিতে নিহত হোসনা বেগম তনিমা ও তার মা রাবেয়া বেগমের জানাযা রোববার বাদ জোহর পূর্ব লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযায় উপস্থিত হয়ে নিহত ব্যাক্তিদের মাগফেরাত কামনায় কমিউনিটির কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
গ্রেনফল টাওয়ারের আগুন লাগার সময় ঘরে ছিলেন ৮২ বছর বয়সী বাবা কামরু মিয়া, ৬০ বছর বয়সী মা রাবেয়া বেগম এবং তাদের তিন সন্তান মেয়ে হোসনা বেগম এবং দুই ছেলে হানিফ ও হামিদ ছিলেন।
আগুন লাগার প্রায় ১ ঘন্টা পরেও চাইলে বৃদ্ধ বাবা-মাকে ফেলে জীবন রক্ষা করতে পারতেন ২২ বছর বয়সের হুসনা বেগম এবং তার দুই ভাই ২৬ বছরের হানিফ এবং ২৯ বছর বয়সের হামিদ। ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার পর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তারা জীবন রক্ষার জন্যে বের হয়ে আসতে পারতেন। রাত প্রায় ৩ টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ১৭ তলার নিজের ঘর থেকে তারা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বর্ণনা করেছেন পুরো পরিস্থিতির। কান্নাজড়িত কন্ঠে বিদায় নিয়েছেন স্বজনদের কাছ থেকে।
ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তাদের আরেক সন্তান মোহাম্মদ হাকিম। হাকিম ঘরেই ছিলেন পরিবাররে সবার সঙ্গে। কিন্তু আগুন লাগার কিছু আগে তিনি ঘর থেকে বের হন। এর ফলে ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। ৩ ভাইয়ের একমাত্র বোন হোসনা বেগম তানিমার বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল জুলাই মাসে।
এর মধ্যে মা রাবেয়া বেগম এবং মেয়ে হোসনা বেগম তানিমার মরদেহ সনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার জানাজা শেষে হেনল্টের গার্ডেন অব পিসে তাদের দাফন করা হবে বলে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
গত ১৩ জুন মধ্যরাতে ২৪ তলার গ্রেনফল টাওয়ারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০ জন নিহত হন বলে পুলিশ নিশ্চিত করে।