শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত পূরণে কাতারকে অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল সৌদি জোট। মধ্যস্থতাকারী কুয়েতের অনুরোধে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায়।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সৌদি-কুয়েত যৌথ বিবৃতিতে অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করা হয়। তবে বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই গতবারের মত এবারেও কাতার সোমবার সৌদি আরব ও তার মিত্রদের দেয়া শর্তের জবাব দিয়েছে।
তাদের দাবি পূরণের জন্য দোহাকে আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয়ার পর কাতারের পক্ষ থেকে এ জবাব জানানো হয়ছে বলে নিশ্চিত করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম।
একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রাহমান আল-থানি কুয়েতে সংক্ষিপ্ত সফরকালে দেশটির কাছে দোহার জবাব হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য, কুয়েত এই সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করছে। তবে কাতারের পক্ষ থেকে কি জবাব দেয়া হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে সুত্র বলছে, সৌদির দেয়া শর্তগুলোকে’ গ্রহণযোগ্যও নয় বাস্তবায়ন যোগ্যও নয়’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।
এর আগে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, আল-জাজিরা নেটওয়ার্ক ও তুরস্কের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করাসহ কাতারকে ১৩ দফা শর্ত দিয়েছিলো সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন দেশগুলো। এ সব শর্ত মানার জন্য কাতারকে ১০ দিনের সময় দেয়া হয়। তবে সৌদি আরবের বেঁধে দেওয়া সময় আর ১৩ শর্ত মাত্র একদিনের মাথায় প্রত্যাখ্যান করে কাতার।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর গত ২২ জুন তাদের ১৩টি দাবি মেনে নেয়ার জন্য কাতারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।‘ধোপে টিকলোনা’ সৌদি জোটের দেয়া ১৩ শর্ত ! এক ঝটকায় ‘প্রত্যাখ্যান’ করে দিলো কাতার !
গত রবিবার রাতে তাদের পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়। সোমবার তা আরো ৪৮ ঘন্টা বাড়ানো হয়। তবে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, কুয়েতের আমিরের অনুরোধে তারা এ সময়সীমা বাড়িয়েছে।
সৌদি জোটের দাবিগুলোর মধ্যে দোহাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার, সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস ও ইরাকে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ অন্যতম। এর আগে শেখ মোহাম্মদ বলেছিলেন, শর্তের তালিকাটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং সোমবার কাতারের পক্ষে ব্রিটিশ আইনজীবীরা এসব দাবিকে ‘আন্তর্জাতিক আদালতের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
সৌদি আরব, মিসর, ইউএই এবং বাহরাইনের অভিযোগ, কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কট্টর ইসলামপন্থী একাধিক সংগঠনকে মদদ দেয়। আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলও এই কট্টরপন্থীদের সহযোগিতা করে। এছাড়া আঞ্চলিক শত্রু হিসেবে পরিচিত ইরানের সঙ্গেও দোহার সুসম্পর্ক আছে।
তবে কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বলা হচ্ছে, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, দাবিগুলো মেনে না নিলে ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার’ অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা আরব দেশগুলো আবারও কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে বলে রবিবার খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তবে সে পথে না হেঁটে কুয়েতের অনুরোধে সাড়া নিয়ে কাতারকে দেওয়া দাবি মেনে নিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
এর আগে, রোমে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল-রাহমান আল থানি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন বলেন, আরব দেশের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। মেনে নেওয়ার মতো করে এটি তৈরি করা হয়নি এবং এতে আলোচনার সুযোগও রাখা হয়নি।
তিনি বলেছেন, কাতার তার সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করে এমন কোন কিছুই গ্রহণ করবে না। পাল্টা অভিযোগ করে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আরব দেশগুলো সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়নি, বরং কাতারের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার লক্ষ্যেই তা করা হয়েছে।
যদিও আরব প্রতিবেশীদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ নিরসনে বৈঠকে বসে আলোচনার জন্য দোহা প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আরব দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে এসব দাবির কোনো মীমাংসা করা যাবে না বলে আগেই জানিয়েছে দিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদে মদদ, আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাসহ বেশ কিছু অভিযোগে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, বাহরাইন, পশ্চিমাপন্থি ইয়েমেন ও লিবিয়া সরকার। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আসছে কাতার।
এরইমধ্যে তুরস্কও এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী সামরিক ঘাঁটি সরানোর চিন্তাও করছে না আঙ্কারা। দোহা বরাবরই বলে আসছে, তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপের প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। চার আরব দেশের এই শর্ত পূরণে সময় দেওয়া হয়েছে ১০ দিন। এরমধ্যে কাতার অবস্থান না বদলালে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে আরবরা।
এর আগে মধ্যস্থতা মেনে নিলেও কাতার বলেছে, সার্বভৌমত্বের বিষয়ে প্রতিবেশীদের নাক গলাতে দেয়া হবে না। এ ছাড়া, অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত চার আরব দেশের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
চলতি মাসের ৫ তারিখে সৌদি নেতৃত্বাধীন এ চার দেশ এক তরফাভাবে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে।