শীর্ষবিন্দু নিউজ: লন্ডন পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রবিবার লন্ডন সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির বিপুল নেতাকর্মী বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। লন্ডনে দীর্ঘদিন পর ছেলেকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাকে বাসায় নিয়ে যান।
হিথ্রো বিমানবন্দরে বিএনপি প্রধানকে স্বাগত জানান তার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সহ ধর্মিনী ডাক্তার জোবায়দা রহমান ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ । হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে বেগম খালেদা জিয়া পাশ্ববর্তী হিলটন হোটেলের সামনে অপেক্ষমান নেতাকমীর্দের সাথে গাড়ীতে থেকে তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এসময় যুক্তরাজ্য বিএনপির বিপুল নেতাকর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। একই সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফের নেতৃত্বে বেশ কিছু আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী বেগম জিয়ার যুক্তরাজ্য আগমনের প্রতিবাদ জানান।
এদিকে লন্ডনে পৌঁছার পর তারেক রহমানকে জড়িয়ে ধরেন আবেগে আপ্লুত খালেদা জিয়া। এর পর নিজে গাড়ি চালিয়ে খালেদা জিয়াকে ভাড়া করা কটেজে নিয়ে যান তারেক রহমান। ভিড় ও অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি এড়াতে খালেদা জিয়ার অবস্থানস্থলের গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। লন্ডনের ওই কটেজে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীসহ কয়েকজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
এখানে তারেক রহমানের স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাবেন তিনি। পরে উঠবেন তারেক রহমানের কিংস্টনের ভাড়া বাসায়।
এদিকে, খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের প্রতিবাদে হিথরোতো বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। বিগত সময়ে আন্দোলনের নামে শত শত মানুষ পড়িয়ে মারার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ করে দলটি।
দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি, প্রবীন রাজনীতিক সুলতান শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নঈমুদ্দিন রিয়াজ, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও মারুফ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরীসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা আওয়ামীলীগের বিপুল সংখ্যার নেতাকর্মী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
খালেদা জিয়াকে আগুন সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে আসা সুলতান শরীফ সত্যবাণীকে বলেন, ‘আন্দোলনের নামে শত শত মানুষ পুড়িয়ে মারার পর রাজনীতিতে থাকার কোন অধিকার নেই খালেদা জিয়ার। রাজনীতিক নয়, তিনি এখন একজন অপরাধী, সন্ত্রাসী। ব্রিটেনের মত একটি সভ্য দেশে তাঁর আগমন ব্রিটিশ সমাজে জাতি হিসেবে আমাদের কমিউনিটিকে ছোট করবে। আর তাই তাঁর এই সফরের বিরুদ্ধে আমরা বিক্ষোভ করছি’।
আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একজন নেতা সত্যবাণীকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী দু:শাসন সম্পর্কে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা জানতে চাইতে পারেন, এই ভয়ে আওয়ামী লীগ গুটি কয়েক কর্মী নিয়ে এই বিক্ষোভের নাটক করছে, এটি আমরা পাত্তা দিচ্ছিনা।
লন্ডনে তিনি ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করবেন। সফরে যুক্তরাজ্য বিএনপি, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার ও গৃহপরিচালিকা ফাতেমা বেগম।