শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ব্রিটেনে স্বামী বা স্ত্রী তাদের বার্ষিক আয় ১৮,৬০০ পাউন্ড দেখিয়ে স্পাউসের জন্য আবেদন করতে হয়। যার জন্য অনেকেই তাদের পরিবার ব্রিটেনে নিয়ে আসতে পারেন নি।
ব্রিটেনে নন ইউরোপিয়ান নাগরিকদের বিবাহ সূত্রে নিয়ে আসতে আয় দেখাতে হত বার্ষিক ১৮,৬০০ পাউন্ড। এসব পরিবারে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত্র হয়ে বিচ্ছেদ পর্যন্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এবার তাদের জন্য সুখবর দিল ব্রিটিশ হোম অফিস।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয় দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় হাজার হাজার স্পাউস ভিসার আবেদন রিফিউ হয়। এনিয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে আবেদন কারীদের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ফলে ইমিগ্রেশন আইনে নতুন এই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে হোম অফিস।
চলতি বছরের ২০ জুলাই হোম অফিস তাদের ওয়েবসাইটে ইমিগ্রেশন আইনের পরিবর্তন করে নতুন নিদের্শনা দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার স্পাউস ভিসা আবেদনকারীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে এ নিয়ম চালু করা হলেও গত ২০ জুলাই থেকে স্পাউস ভিসার ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে হোম অফিস। বর্তমান নিয়ম কিছুটা শীতিল করে থার্ড পাটির সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, আগের নিয়মে প্রায় ৫ হাজার আবেদন আটকে ছিল। এখন হোম অফিস এই মামলা বিবেচনা করবে। অন্যদিকে সেসকল স্পাউসের শিশু সন্তান রয়েছে, সেক্ষেত্রে শিশুর অগ্রাধিকার দিতে বলেছে আদালত।
আগামী ১০ আগষ্ট থেকে ভিসা আবেদনকারীরা তাদের আয়সীমার প্রমান হিসেবে থার্ড পার্টি ম্পন্সর ব্যবহার করতে পারবেন। থার্ড পার্টি ম্পন্সর হিসেবে আবেদন কারীরা তাদের নিকট আত্মীয় কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে পারবেন।
তবে এক্ষেত্রে যিনি ব্রিটেনে আসবেন তিনি ৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর পর স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাবেন। আর স্পন্সরকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে প্রমান করতে হবে আবেদনকারীর। শুধু নাম মাত্র স্পন্সর হলে হবে না। স্পন্সরকে কমপক্ষে আড়াই বছর সহযোগিতা করার যোগ্যতা থাকতে হবে।
হোম অফিসের এই পরিবর্তনের নতুন খবর শুনে খুশির জোয়ার বইছে বৃটেনে বসবাসরত বাঙ্গালীদের মধ্যে। যারা এতদিন কোর্ট পর্যন্ত গিয়েও কোন সুরাহা করতে পারেন নি। তারা বলছেন, এই পদ্ধতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। অন্তত পক্ষে তারা ব্রিটেন তো আসতে পারবেন। পরিবারের সাথে থাকতে পারবেন। দেশে খোজঁ-খবর নেয়া, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, খরচের টাকা পাঠানো এসব থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।