রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০

ঘরে-বাইরে বিপাকে সু চি: মিয়ানমারের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ

ঘরে-বাইরে বিপাকে সু চি: মিয়ানমারের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা বিনিয়োগ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: চীনা বিনিয়োগে অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু’চি।

বেইজিং-এর সঙ্গে তার সরকারের বাস আমদানির দুটি চুক্তির স্বচ্ছতাকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে এবং বহিঃবিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন কথিত এই গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী। ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) পক্ষ থেকে চীনা বাসকে মিয়ানমারবাসীর জীবনধারা বদলের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপনের আশা থাকলেও সিদ্ধান্তটি সরকারের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদের হতাশ করেছে।

প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ইয়াংগুনের মুখ্যমন্ত্রী ও সু চি’র আস্থাভাজন ফিও মিন থেইন। এ নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে মিয়ানমারের টানাপোড়েনেরও আভাস মিলেছে।

মিয়ানমারের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে গত বছর বিশ্বব্যাংকের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স করপোরেশন থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার। ফিনান্স করপোরেশনের কিছু শর্তকে কেন্দ্র করে ওই প্রস্তাবে দেশটির পক্ষ থেকে সাড়া দেওয়া হয়নি। ফিনান্স করপোরেশন চেয়েছিল টেন্ডার প্রক্রিয়া উন্মুক্ত থাকবে।

কিন্তু তাতে রাজি ছিল না মিয়ানমার সরকার। প্রাথমিকভাবে ফরাসি ও ডাচ সরবরাহকারীদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছিল। কূটনীতিক ও লবিস্টদের বরাতে রয়টার্স জানায়, মুখ্যমন্ত্রী যত দ্রুত ও যতগুলো বাস চাচ্ছিলেন তা ফরাসি ও ডাচ কোম্পানির পক্ষে পূরণ করা সম্ভব ছিল না। তার বদলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান ইয়াংগুন বাস পাবলিক কোম্পানি (ওয়াইবিপিসি) দুটি চীনা কোম্পানি থেকে ১০০০ বাস কিনে নেয়।

মিয়ানমারে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতই ওই কোম্পানিগুলোকে বেছে দেন। পরে তৃতীয় এক চীনা কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়ী কিয়াও নে উয়িনের করা এক বেসরকারি চুক্তির মধ্য দিয়ে আরও ১০০০টি বাস কেনা হয়। চুক্তিগুলো হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও সরকারি টেন্ডার দেওয়া হয়নি এবং এ নিয়ে আঞ্চলিক আইনসভায় কোনও বিতর্কও হয়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যে চীন থেকে ২০০০ বাস আমদানির জন্য সু চি’র সরকার যে চুক্তিটি করেছে তা নিয়ে এনএলডি নেতারা বিভাজিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আঞ্চলিক এমপিরা। ইয়াংগুনের মুখ্যমন্ত্রী ফিও মিন থেইনের যোগ্যতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ইয়াংগুনভিত্তিক এনএলডি’র পার্লামেন্ট সদস্য কিয়াও জায় ইয়া বলেন, ‘ফিও মিন থেইন সরকারের স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। তিনি নিজেকে না বদলালে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে চুক্তিটির কারণে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গেও মিয়ানমারের সম্পর্কের তিক্ততা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে বলে কোনও প্রমাণ নেই। তবে মিয়ানমারে নিয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত রোল্যান্ড কোবিয়া মিয়ানমারের বাণিজ্যমন্ত্রী থান মিন্তের কাছে পাঠানো এক গোপন চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, এ চুক্তি নিয়ে সরকারের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল।

জুনে কোবিয়ার পাঠানো চিঠিটি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছে রয়টার্স। ওই চিঠিতে কোবিয়া লিখেছেন, ‘বর্তমানে দেশীয় অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে গুটিকয়েক অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি। তাদের কারণে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হচ্ছে না।’ তবে ওই চিঠিতে বাস সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় চীনা বাসগুলো অর্ধেক দামে পাওয়া গেলেও সেগুলো পরীক্ষা করে ইঞ্জিনিয়াররা আভাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মানের বাসগুলোর তুলনায় এগুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে কয়েকবার ইয়াংগুনের মুখ্যমন্ত্রী ফিও মিন থেইনের সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগে তিনি এবং সরকারের অনেক মন্ত্রীই চুক্তিটির পক্ষে কথা বলেছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, চীনের সরকারের সঙ্গে মিয়ানমারের সরকারের চুক্তিটি হ্রাসকৃত মূল্যে হচ্ছে এবং বাসগুলো দ্রুত সরবরাহ করা হবে।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত কোবিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অনেক ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে কাজ করতে প্রস্তুত, কিন্তু চুক্তির জন্য প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে মিয়ানমারের আরও অনেক কিছু করার আছে।’

ইইউ জানায়, এর মধ্য দিয়ে সরকারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন কোবিয়া। অবশ্য, মিয়ানমারের বাণিজ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র এ ব্যাপারে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

২০১৫ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা আসে সু চি’র দল এনএলডি। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য তখন সু চিকে সমর্থন দিয়েছিল পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু ইয়াংগুনের বাস চুক্তিটির কারণে পশ্চিমা সমর্থকদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার কি ক্রমাগত ব্যবসার জন্য চীনের দিকে ঝুঁকছে কিনা তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে তাদের মাঝে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026