বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৪

ব্রিকলেইন এবং লাইম হাউস পুলিশ স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তে মেয়র জন বিগসের উদ্বেগ

ব্রিকলেইন এবং লাইম হাউস পুলিশ স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তে মেয়র জন বিগসের উদ্বেগ

ফাইল ফটো

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পুলিশের বাজেট সংকোচন না করার আহবান জানিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ কতৃক ব্রিক লেইন এবং লাইম হাউস পুলিশ স্টেশন বন্ধের সিদ্বান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, পুলিশ স্টেশন বন্ধ এবং পুলিশের সংখ্যা কমিয়ে আনার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এই দুটি স্টেশন বন্ধের মানে হচ্চেছ সরাসরি উপস্থিত হয়ে অপরাধ সম্পর্কে রিপোর্টের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসে একমাত্র বেথনালগ্রীন পুলিশ স্টেশনটি ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। মেয়র এজন্য সরকারের বাজেট কাটকে দায়ী করেছেন। মেয়র বলেন, কনজারভেটিব পার্টি ক্ষমতায় আসার পর টাওয়ার হ্যামলেটসে ইতিমধ্যেই ২৯৫ জন পুলিশ অফিসার এবং পিসিএসওকে হারিয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটস তার নিজস্ব বাজেট থেকে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যে ৩৯ জন পুলিশ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে কিন্তু সরকারের অব্যাহত বাজেট কাটের কারনে বেশি কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না এবং একই কারনে লন্ডন মেয়র সাদিক খানের হাতও সংকুচিত হয়ে আসছে। মেয়র আরো বলেন, অপরাধ এবং বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। সরকারের উচত এদিকে নজর দিয়ে আমাদের পুলিশ বাজেট কাট বন্ধ করা।

এছাড়া লন্ডন মেয়র অফিস অব পুলিশ এন্ড ক্রাইমস (MOPAC) কতৃক কনসালটেশনের সময়ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তার সাবমিশনে পুলিশ বাজেট কাটের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলো। কনসালটেশনে কাউন্সিল জানিয়েছিল মেয়র অফিস অব পুলিশ এন্ড ক্রাইমকে (MOPAC) পুলিশ অফিসার এবং ফ্রন্ট কাউন্টার এই দুয়ের মধ্যে এটিকে বেছে নেয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা উচিহত নয়। মেয়র অফিস অব পুলিশ এন্ড ক্রাইম এর ডাটাবেজ মোতাবেক ২০১০ সালের মে মাস থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল মোট ২৯৫ জন পুলিশ অফিসার হারিয়েছে।

যার মানে হচ্ছে সরকারের বাজেট কাটের কারনে টাওয়ার হ্যামলেটস সবচাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সারা দেশের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচাইতে বেশী এবং ড্রাগ ও অসামাজিক কার্যকলাপ পুলিশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও এই বাজেট কাটা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মেয়র অফিস অব পুলিশ এন্ড ক্রাইমম্ব এর সূত্র মতে ২০১৬ সালে মাত্র ৮% ক্রাইম রেকর্ড হয়েছিলো পুলিশ স্টেশনে সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে।

২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিলো ২২%। ২০১৬ সালে ৭০% ক্রাইম রেকর্ড হয়েছে ফোনের মাধ্যমে। জরিপে দেখা গেছে ক্রাইম সম্পর্কে রিপোর্ট এর জন্য ৩৭% লন্ডনার অনলাইনকে পছন্দ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। টেলিফোন এবং অনলাইনে ক্রাইম সম্পর্কে রিপোর্টের জন্য লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন বিনিয়োগ করছে।

সূত্র মতে, ২০১৭ সালে মে পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটসের ব্রিক লেইনে দিনে গড়ে ০.৩ টি এবং লাইম হাউজে দিনে গড়ে ১.৯ টি ক্রাইম রেকর্ড হয়েছে। আর বেথনাল গ্রীণে রেকর্ড হয়েছে ৫.১ টি।

২০১০ সাল থেকে সরকারের বাজেট কাটের কারনে মেট্রোপলিটন পুলিশকে ৬শ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে হয়েছে এবং আগামীতে আরো ৪শ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের জন্য কাজ করা হচ্চেছ। একারনে লন্ডন মেয়র সাদিক খানকে বাধ্য হয়ে পুলিশ স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হচ্ছে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2025