বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭

রোহিঙ্গা সংকটে কম্বোডিয়াকে পাশে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটে কম্বোডিয়াকে পাশে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে কম্বোডিয়ার সঙ্গে এক চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। সোমবার সকালে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় ওই ১০ চুক্তি-সমঝোতা সই হয়।

নমপেন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয় ‘পিস প্যালেস’-এ একান্ত এবং আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যু ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে রাখাইনে তাদের বসতভিটায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে আসিয়ান জোটে থাকা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাষ্ট্র কম্বোডিয়ার সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও এ নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের সাধ্যমতো আশ্রয়, খাদ্য দিচ্ছি। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কাজ করে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আমি রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠুভাবে প্রত্যাবাসনের জন্য কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি। কম্বোডিয়ার সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসব চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার রাখছে।

এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে পিস প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে তাকে একটি সুসজ্জিত মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময়ে কম্বোডিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।

এরপর পিস প্যালেসে উভয় দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এবং হুন সেন কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

উল্লেখ্য, কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। ২০১৫ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বাংলাদেশ সফর করেন। দেশটিতে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি সড়কের নামকরণও করা হয়েছে।

যেসব বিষয়ে আলোচনা-সমঝোতা: পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিলের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা শেষে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া।

বাকি সমঝোতা স্মারকগুলো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার খাতে সহযোগিতা, শ্রম ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রসারে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কাউন্সিল ফর দি ডেভেলপমেন্ট অব কম্বোডিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে।

আর একটি মাত্র চুক্তিটি হয়েছে দুই দেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি এবং কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে। চুক্তি ও সমঝোতা সই শেষে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, তা আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সম্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম এবং বিআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানগণ কম্বোডিয়ার পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

রোববার দুপুরে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিকালে তিনি দেশটির স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের রাজকীয় স্মৃতি মূর্তিতে ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। রাতে কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত (অনাবাসী) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দেয়া নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বক্তৃতা করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরছেন। ঢাকা ফেরার আগে দেশটির রাজা নরোদম সিহানুক এবং কম্বোডিয়ান সিনেট প্রেসিডেন্ট সে চুহুম ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি প্রেসিডেন্ট হেং সেমারিনের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ হবে তার।

বাংলাদেশকে এখন সবাই সমীহ করে- প্রধানমন্ত্রী: এদিকে রোববার রাতে কম্বোডিয়ার নমপেনে হোটেল সোফিটেলে রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিমের দেয়া ভোজসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, তারা দেখবেন, আমরা পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিশ্ববাসী এখন বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেছে। এটা বাস্তব যে, সবাই এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে সমীহ করে কথা বলেন।

বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সব সময় মাথা উঁচু করে চলবে। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কম্বোডিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন (অ্যাক্রিডেটেড)। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে এ ভোজ আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও নৈশভোজে অংশ নেন।

শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণটা আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ এবং অনেকেরই এমন ধারণা ছিল, বিশ্বব্যাংকের সাহায্য ছাড়া আমরা এটা নির্মাণ করতে পারব না। কিন্তু আমি বলেছি, আমরা পারবো এবং আমরা করে দেখাবো।

আমরা মিথ্যা অভিযোগ কেন মাথা পেতে নেব? এটা সত্য যে, এর ফলে আমাদের অনেক সমস্যা পোহাতে হয়েছে, তা সত্ত্বেও আমরা চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্টও বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব সামগ্রী, বিশেষ করে আমাদের সিমেন্ট এবং স্টিল দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কম্বোডিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান: বাংলাদেশের সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদার হতে কম্বোডিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কম্বোডিয়া সফরে সোমবার দেশটির রাজধানী নমপেনের হোটেল সোফিটেলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের (সিসিসি) আয়োজনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর দুই দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই) এবং কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে একটি সহযোগিতা চুক্তি হয়।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সত্যিকারের সম্ভাবনার প্রতিফলন এখানে হয়নি। আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে; কম্বোডিয়ার সঙ্গেও এমনটি হবে বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশে বাণিজ্যের সব ধরনের সুযোগ নিতে দেশটির ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে চীন, মিয়ানমার ও ভারতের অর্থনৈতিক করিডোরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে চলেছে।

এ সুযোগটিও কম্বোডিয়ার ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরিতে উদ্যোগের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি প্রণয়নের কথাও তিনি বলেন। শেখ হাসিনা জানান, বিনিয়োগ নীতির আলোকে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা, বিশেষ কর অবকাশ সুবিধা এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কছাড় দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কম্বোডিয়া চেম্বারের সভাপতি নিয়েক ওকনাহা কিথ মেং। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম এবং এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026