শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: আগামী বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সরকারি সেবা খাতের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা (শাটডাউন) করা হয়েছে। মৌলিক সেবা খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া অব্যাহত রাখার ব্যাপারে কংগ্রেসের ব্যর্থতার কারণে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি সমৃদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৭ বছরের মধ্যে প্রথম এ ধরনের ঘটনা ঘটলো।
এর ফলে ১০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মজীবীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে অবৈতনিক ছুটিতে। দেশের জাতীয় উদ্যানগুলো এবং মেডিকেল গবেষণার প্রকল্পগুলো এখন বন্ধ হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে এসব সেবা বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে ৮,০০,০০০ সরকারি কর্মচারী এখন বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হবেন।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১২টার আগ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিলটি পাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি ও প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের মতানৈক্যের কারণে বিলটি আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু বিলটি পাস না হওয়ায় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা), জাতীয় পার্ক, পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাসহ বেশ কিছু সেবা সংস্থার বেশির ভাগ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
অবশ্য সামরিক বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থাগুলোর ওপর এর কোন প্রভাব পড়বে না। তবে বিনোদন পার্ক, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য খাদ্য সহযোগিতা এবং ফেডারেল গৃহঋণের মতো সরকারি পরিসেবা এর ফলে ব্যাহত হবে। বিলটি পাস না হওয়ার কারণ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ওবামার স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত একটি আইন। ওবামা কেয়ার নামে পরিচিত বিলটি পাস না করতে অথবা এতে কোন অর্থ বরাদ্দ না দিতে ওবামার প্রতি রিপাবলিকানরা আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ওবামা তার ব্যক্তিগত টুইটার বার্তায় বলেছেন, তারা প্রকৃতই কাণ্ডটি ঘটালো। একটি সঠিক বাজেট পাস করতে না দিয়ে ‘ওবামা কেয়ারে’র দোহাই দিয়ে রিপাবলিকানরা সরকারকে সেবাখাতগুলো বন্ধে বাধ্য করলো। হাউসের রিপাবলিকান স্পিকার জন বোয়েহনার অধিবেশনের কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমেরিকার জনগণ কোন সেবা বন্ধ করতে চান না। আমিও সেটার পক্ষপাতী নই। তবে নতুন স্বাস্থ্যসেবার বিলটির বড় ধরনের প্রভাব থাকায় কিছু একটা না করে কোন উপায় ছিল না।
এর আগে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সেবা খাতের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ১৪ই নভেম্বর থেকে ১৯শে নভেম্বর ও ১৯৯৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ই জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অজরুরি সরকারি কর্মকর্তাদের সাময়িক ছুটি প্রদান এবং অজরুরি সেবাগুলো স্থগিত রাখা হয়েছিল। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন সেবাখাতে তহবিল বরাদ্দ নিয়ে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক ও বিরোধী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের দ্বন্দ্বের কারণে তখন এমনটি হয়েছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিল ক্লিনটন। এ বিষয়টি পরবর্তী মার্কিন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলেছিল।
ওবামা কেয়ার পাসে ডেমোক্রেটরা অনড় থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হলো। সেবাখাতগুলো বন্ধ হওয়ার প্রথম শিকার হয়েছেন খোদ মার্কিন আইনসভার অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট। রাত ১২টার পর অ্যাকাউন্টটিতে দেয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এ অ্যাকাউন্টটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে। বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মার্কিন নাগরিকরা।