মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স নিহত না আহত: সৌদি মিডিয়ার দাবি যুবরাজ বেঁচে আছেন

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স নিহত না আহত: সৌদি মিডিয়ার দাবি যুবরাজ বেঁচে আছেন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: প্রায় এক মাস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। আর এই নিয়ে ইরানের কয়েকটি মিডিয়ার দাবি করেছে, গেলো মাসে সম্ভাব্য এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন সৌদির আরবের সবচেয়ে শক্তিশালী এই ব্যক্তি।

তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মৃত্যুর গুঞ্জনের মধ্যেই তিনি বেঁচে আছেন বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম।

ছবির ক্যাপশনে তারা লিখেছে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন। ওই পোস্টে, গণমাধ্যমে সম্প্রতি তাকে ঘিরে অপপ্রচারেরও সমালোচনা করে কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত ছবিতে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি এবং আবুধাবি ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে যুবরাজকে দেখা যায়।

কিন্তু প্রকাশিত ওই ছবিটি কবে, কোথায় তোলা হয়েছে সে বিষয় কোনো তথ্য আর রিয়াদের খবরে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে গত মাসে সৌদি আরবের ওই ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি, বাদশাহ হামদ বিন ঈসা আল খলিফা, আমিরাত যুবরাজ ও সৌদি যুবরাজ কোথাও একত্র হয়েছেন এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ছবিটি পুরনো বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আরব রাষ্ট্রকে পাঠানো গোয়েন্দা সার্ভিসের রিপোর্টের বরাত দিয়ে কায়হান পত্রিকা জানিয়েছ, ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে হামলায় সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দুটি গুলি লাগে। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদকে আর জনসম্মুখে দেখা না যাওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে তিনি হয়তো মারা গেছেন।

ইরানের প্রেস টিভি বলছে, ওইদিনের পর থেকে যুবরাজ মোহাম্মদের নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তার প্রথম সফরে রিয়াদ গেলে সেখানেও যুবরাজ মোহাম্মদকে দেখা যায়নি।

ইরানের আরেক সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ অ্যাজেন্সি জানাচ্ছে, যুবরাজ মোহাম্মদ প্রায় সবসময়ই মিডিয়ার সামনে হাজির হন। কিন্তু রিয়াদে ওই গুলিবর্ষণের ঘটনার পর ২৭ দিন ধরে যুবরাজ মোহাম্মদের অনুপস্থিতি তার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গেলো মাসে ২১ তারিখ কয়েকটি মিডিয়ার খবরে জানা যায়, রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে ভারি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। যেটি একটি সম্ভাব্য অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে মিডিয়াগুলো।

যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজপ্রাসাদের কাছে অননুমোদিত একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটেছে। তবে অনেক মিডিয়ায় খবর বের হয়, বাদশাহ সালমানকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।

সৌদির একজন বিশ্লেষক আলি আল-আহমেদ জানান, বাদশাহ সালমানকে ওইসময় কিং খালেদ সেনাঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও ওই সেনা অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহ পর ২৮ এপ্রিল বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দেখা মেলে যুবরাজ মোহাম্মদের। এদিন দেশটির কিদ্দিয়ায় কয়েকশ’ কোটি ডলারের একটি বড় বিনোদন রিসোর্ট উদ্বোধন করেন বাবা-ছেলে।

আল-আসাকের টুইটে লিখেন, কয়েকদিন আগে মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ আল-সিসি আয়োজনে দুই ভাইয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তবে ওই ছবি কবেকার সেটি জানাননি আল-আসাকের। মধ্যপ্রাচ্যের দুই ক্ষমতাধর দেশ সৌদি আরব এবং ইরান এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই করছে। ইয়েমেন ও সিরিয়া সংঘাতে উভয় দেশ বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যখন সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে তখন থেকে রিয়াদ এবং তেহরানের সম্পর্ক আরও খারাপ আকার ধারণ করে।

একইসঙ্গে ইয়েমেনের এ বিদ্রোহীগোষ্ঠীকে ইরান অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ আনে সৌদি। প্রিন্স মোহাম্মদ, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন যায়েদ আল নাহিয়ান, বাহরাইনের কিং বিন ইসা এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ আল–সিসি

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তেহরান এবং মাশদাদে সৌদি দূতাবাসে হামলার ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ইরানের শিয়া মতাবলম্বী শীর্ষ নেতা শেখ নিমর আল নিমরসহ আরও ৪২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে রিয়াদ। গেলো বছরের ডিসেম্বরে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে দুটি শর্ত জুড়ে দেন।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে অমানবিক বোমা হামলা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভ্রান্ত বন্ধুত্ব বাতিল করতে হবে রিয়াদকে। চলতি বছরের মার্চে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধ আসন্ন বলে সতর্ক করে দেন সৌদি যুবরাজ। একইসঙ্গে সামরিক দ্বন্দ্ব এড়াতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ইরানি মিডিয়া প্রেস টিভি ও ফার্সি মিডিয়া, ফার্স ও খিহানের উল্লেখ করে স্পুটনিক বলছে, অভ্যুত্থানের সময় সৌদি বাদশাহ সালমান একটি সামরিক বাঙ্কারে আশ্রয় নেন।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে অভ্যুত্থানকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

তবে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তখন জানিয়েছিল, রাজপ্রাসাদের কাছে একটি ড্রোন উড়তে দেখে তা গুলি করে নামানো হয়। ওই সময় ক্রাউন প্রিন্সকে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানানো হয়।

স্পুটনিকের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র অন্য একটি দেশকে জানিয়েছেন যে, ওই রাতে গোলাগুলির সময় ক্রাউন প্রিন্সের গায়ে দুটি গুলি লাগে। কিন্তু তার পরে তার ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা ওই সূত্রটি জানাতে পারেনি।

তবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সাধারণত প্রায়ই গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ দিন তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না। এ কারণে তার মৃত্যুর গুজব নানা ডালপালা মেলছে।

এছাড়া গত মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সৌদি আরব সফরের সময়ও ক্রাউন প্রিন্সকে দেখা যায়নি। এসব ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ধরনের মন্তব্য করেননি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026