শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৮ বছর পর ভোট দেখল জিম্বাবুয়ের জনগণ। প্রায় চার দশক ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা রবার্ট মুগাবেকে উৎখাতের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টা) ১০ হাজার ৯৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও জিম্বাবুয়ে পার্লামেন্টের সদস্য ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করা হবে।
১৯৮০ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই প্রথম দেশটির কোনো সাধারণ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে মুগাবের নাম থাকছে না। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুগাবের দল জানু পিএফের এমারসন নানগাগওয়া ও বিরোধী প্রার্থী নেলসন চামিসার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেটিক চেঞ্জ (এমডিসি) দলের ৪০ বছর বয়সী চামিসার তুলনায় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সী নানগাগওয়া।
মোট নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশেরই বয়স ৩৫ এর নিচে হওয়ায় এবারের ভোটে তরুণরাই পার্থক্য গড়ে দেবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যে কারণে চামিসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
২৫ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া চামিসা বিজয়ী হলে তিনিই হবেন দেশটির সবচেয়ে তরুণ প্রেসিডেন্ট। জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও খেলাধুলায় বিনিয়োগ বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ এমডিসি নেতা।
তার উচ্চগতিসম্পন্ন বুলেট ট্রেন ও জিম্বাবুয়েতে অলিম্পিক আয়োজনের মতো উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলোর সমালোচনা করছেন বিরোধীরা।
‘দ্য ক্রোকোডাইল’ খ্যাত নানগাগওয়া বলেন, ‘নির্বাচিত হলে তিনি এমন অর্থনৈতিক সংস্কার করবেন যা অসংখ্য কর্মসংস্থানের জোগান দেবে।’ জিম্বাবুয়েতে বেকারত্বের হার প্রায় ৯০ শতাংশ হওয়ায় এ বিষয়টিও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
এদিকে, ভোটের আগের দিনে রোববার মুগাবের এক সংবাদ সম্মেলনও দেশটির রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হুট করে ডাকা ওই সংবাদ সম্মেলনে ৯৪ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট তার উত্তরসূরি নানগাগওয়াকে ভোট দেবেন না বলে জানান।