সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪

দ্য গার্ডিয়ানকে উইকিলিকস-এর চ্যালেঞ্জ

দ্য গার্ডিয়ানকে উইকিলিকস-এর চ্যালেঞ্জ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের সাবেক ব্যবস্থাপক পল মানাফোর্টের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করার খবরটি নাকচ করে দিয়েছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

মানাফোর্টও আলাদাভাবে বিবৃতি দিয়ে খবরটি অস্বীকার করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত খবরটির সত্যতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গার্ডিয়ানের সঙ্গে বাজি ধরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা।

মঙ্গলবার সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডর দূতাবাসে ২০১৩ সাল থেকে একাধিকবার অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করেছেন মানাফোর্ট।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের হয়ে কাজ করার সময়ও মানাফোর্ট অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার কয়েক মাস পর ডেমোক্র্যাট-দলীয় কিছু ইমেইল ফাঁস করেছিল উইকিলিকস।

একাধিক টুইটে মানাফোর্ট ও অ্যাসাঞ্জের সাক্ষাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ। এ অভিযোগকে ধাপ্পাবাজি বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাসাঞ্জ। টুইটারে উইকিলিকস জানিয়েছে, এ খবর যে মিথ্যা তা প্রমাণ করতে লাখো ডলার ও সম্পাদকের মাথাকে বাজিতে লাগাতে রাজি আছে তারা।

আইনি লড়াইয়ে যেতে একটি তহবিল সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে উইকিলিকস। টুইটার পোস্টে তারা লিখেছে, এ দিনটিকে মনে রাখুন, যেদিন কিনা দ্য গার্ডিয়ান কর্তৃপক্ষ জালিকাতকারীদেরকে পুরোপুরি পত্রিকাটির সুনাম নষ্ট করার অনুমোদন দিলো।

মানাফোর্ট যে কখনও অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করেননি তা প্রমাণ করতে আমরা গার্ডিয়ানের সঙ্গে লাখো ডলার অর্থ ও সম্পাদকের মাথা দেওয়ার মতো বাজি ধরতে চাই। মানাফোর্টও এক বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন: আমি কখনও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ কিংবা তার সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনভাবেই যোগাযোগ করিনি। কোনও বিষয় নিয়েই আমি কখনও অ্যাসাঞ্জ কিংবা উইকিলিকসের কাছে যাইনি।

বিশ্বজুড়ে ক্ষমতা উন্মোচনকারী বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস এর এডিটর-ইন-চিফ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে বাস করছেন। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ওই বছরের জুন থেকে সেখানে আছেন অ্যাসাঞ্জ।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে।

আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ। গত বছর সুইডিশ প্রসিকিউটররা ওই অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করে দেন।

তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মানাফোর্ট।

সেসময় তিনি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। মানাফোর্ট কেন অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের দুইজনের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

তবে শেষবার দুইজনের মধ্যে যে সাক্ষাৎ হয়েছে তা নিয়ে বিশেষ প্রসিকিউটর রবার্ট মুলার আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্ত করছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট এক সূত্র গার্ডিয়ানের কাছে দাবি করেছে, ২০১৬ সালের মার্চের দিকে মানাফোর্ট অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

এর কয়েক মাস পর রুশ গোয়েন্দাদের চুরিকৃত কিছু মার্কিন ডেমোক্র্যাট-দলীয় ইমেইল ফাঁস করেছিল উইকিলিকস। এ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন মানাফোর্ট। তার দাবি এ অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026