শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: কবরে শুয়ে ধ্যান করছেন এক ছাত্রী। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে এমন একটি খবর। এ নিয়ে হইচই পড়ে গেছে ইতিমধ্যে।
সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এ বিষয়ে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে- একটি কবর খুঁড়ে তাতে প্লাস্টিক বিছিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন এক জ্যাকেট পরিহিত তরুণী। ঘরের বিছানা ছেড়ে নির্জন স্থানে মেয়েটি কেনইবা এমন অদ্ভুত কাজ করছেন, সে প্রশ্ন ছুড়েছেন নেটিজেনরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মৃত্যুকে অনুভব করছেন ওই তরুণী। মৃত্যুর পর পরিবেশ ঠিক কেমন হয়ে থাকে, তা বুঝতেই এমন কাজ করছেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন মাধ্যম মিরর জানিয়েছে, জীবনের গুরুত্ব ও সময়ের মূল্য বোঝানোর জন্য ওই তরুণীকে এভাবে কবরে শোয়ানো হয়েছে।
যতক্ষণ জীবন রয়েছে, ততক্ষণ মানুষ পৃথিবীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বেঁচে থাকাকালীন পৃথিবীতে অলস সময় পার না করে কাজের মধ্যে ডুবে থাকতেই এই আজব পদ্ধতি। আর পদ্ধতিটির স্রষ্টা নেদারল্যান্ডসের রেডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে নেদারল্যান্ডসের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমিয়ে পরীক্ষায় ভালো ফল করাতেই এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
কবরের আদলে মাটি খুঁড়ে তাতে শিক্ষার্থীদের শুইয়ে দিয়ে মেডিটেশন বা ধ্যান করানো হচ্ছে। দেশটির নিজমেগনে অবস্থিত রেডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি করা হচ্ছে।
এমন ধ্যান করে নাকি সফলও হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। একই কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, পরীক্ষার আগে এই কবরে শুয়ে তাদের ধ্যান একীভূত হয়েছে। মস্তিষ্ক শীতল হয়ে মানসিক চাপ দূর হয়েছে। তারা পরীক্ষায় আগের তুলনায় ভালো লিখতে পারছেন। আগে পরীক্ষা চলাকালীন ভয় ও দুশ্চিন্তা কাজ করত। এ মেডিটেশনের পর তার অনেকটাই লোপ পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। এখন শুধু পরীক্ষার জন্যই নয়, টেনশন থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে লাইন দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা জানান, শিক্ষার্থীরা কবরে ধ্যান করার জন্য নিজেদের নাম লেখাচ্ছেন। ফলে অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যে কারণে আগে থেকেই আসন বুকিং করতে হচ্ছে তাদের।
এ জন্য অনলাইনে খোলা হয়েছে পেজ। যেখানে শিক্ষার্থীরা ৩০ মিনিট থেকে শুরু করে ৩ ঘণ্টা অব্দি কবর বুক করতে পারছেন।
উল্লেখ্য, মৃত্যুকে মনে করতে কবরে জীবন্ত শুয়ে পড়ার এমন অদ্ভুত কর্মকাণ্ড এটিই প্রথম নয়; দক্ষিণ কোরিয়ায়ও এ রকমই এক ব্যবস্থা রয়েছে। মৃত্যু কেমন বা মরে যাওয়ার পর কেমন অনুভূতি হয়, তা জীবিত অবস্থাতে টের পেতে এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে।
জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবনের মূল্য বোঝাতে মানুষকে বেঁচে থাকাবস্থাতেই কবরে ঢোকানো হয় হিলিং সেন্টার নামের একটি পরিসেবা কেন্দ্র।