রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০

সিলেটে হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেট ফের বন্ধ

সিলেটে হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেট ফের বন্ধ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেট শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের কেনাকাটা করার জন্য হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেট। এটা ছোট থেকে বড় সবাই জানেন।

সিলেটে এই দুই মার্কেট আগামী ঈদ উল ‍ফিতর উপলক্ষে খোলা ছিল। যেখানে গা ঘেঁষে ঘেঁষে চলতে হয় সবাইকে। এ দুটি মার্কেটকে নিয়ে সিলেটে টেনশন বেশি। সবাই মানছেন সামাজিক দূরত্ব। করোনা ভয়ে অত্যাধুনিক বিপণি বিতান ও শপিংমল বন্ধ। মাহা, আড়ং সহ আধুনিক শপিং সেন্টারেও ঝুলছে তালা। এই অবস্থায় কোনো অনুরোধই রক্ষা করছে না ওই দুটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

এই দুটি মার্কেট খুবই পুরাতন। গলিগুলো ঘিঞ্জি। কিছু সংখ্যক ক্রেতা ঢুকলেই হাঁটা-চলা দায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন এক, আর করছেন আরেক। বৃহস্পতিবারও নগর ভবনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন হাসান, হকার, পৌর সহ কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। ওই বৈঠকে সবাই ঘোষণা দেন- করোনা সংক্রমণ এড়াতে ঈদ পর্যন্ত তারা মার্কেট বন্ধ রাখবেন। এই ঘোষণার পর রাত থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিলো।

এদিকে- সিলেটের দোকান মালিক সমিতির নেতারাও করোনা কালে মার্কেট বন্ধ রাখতে সিলেটের ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু সকাল হতেই ফের বদলে যায় পরিবেশ। শুক্রবারের দিন। এমনিতেই ছুটির আমেজ। কিন্তু এই দিনেও আবার দোকান খুলে বসেন সিলেটের হকার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। দেদারসে বিক্রি হচ্ছিল। আর সে খবর পেয়ে ক্রেতারাও ঢুকছিলেন মার্কেটে। খবর পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক ছুটে যান সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি গিয়েই প্রকাশ্য বিকিকিনির দৃশ্য দেখে ক্ষেপে যান। দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তাকে দেখে ক্রেতারা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। তারা সরে যান মার্কেট থেকে। এ সময় আরিফুল হক চৌধুরী ব্যবসায়ী সমিতি নেতাদের উপস্থিতিতে মার্কেট বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন।

এ সময় সিটি মেয়র গণমাধ্যমকে বলেন, সবাই মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবাই মানছেন। কিন্তু মানছে না কেবল হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেট। বৃহস্পতিবার তারা সবাই নগর ভবনে গিয়ে বলে আসলেন মার্কেট বন্ধ রাখবে। কিন্তু ১২ ঘন্টার পর দৃশ্য বদলে গেলো।

সিটি মেয়র বলেন, কিছু ব্যবসায়ী রয়েছেন সিলেটের বাইরের। তারা ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেটে চলে এসেছেন। এখন তারাই দোকান খুলে বিক্রি শুরু করেছেন। কোনো সিলেটী ব্যবসায়ী দোকান খুলছে না। যারা খুলছে তারা বাইরের ব্যবসায়ী। বার বার বুঝানোর পর তারা বুঝছে না।

তিনি বলেন- করোনাকালীন এই সময়ে আর কিছুই করার নেই। আমি আজ সকাল থেকে মার্কেটের সামনে বসে থাকবো। পাহারা না বসালে ওই সব ব্যবসায়ীদের কন্ট্রোল করা সম্ভব হবে না।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেটের মার্কেট কিংবা দোকান পাট বন্ধ রাখার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। বিকেল ৪টার পর যারা খুলা রাখছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন যারা নিজেরা সচেতন হয়ে মার্কেট বন্ধ রাখতে চান তারা রাখতে পারেন। এ কারণে সিলেটে খোলা রাখা মার্কেটগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসান মার্কেট ও হকার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- দোকান বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন দোকান কর্মচারীরা। তাদের বেতন বন্ধ। এই বন্ধের কারনে দোকান কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের দাবি- সরকার যেহেতু নমনীয় হয়েছে সেখানে সিলেটে জোরপূর্বক মার্কেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে করে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026