শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রশাসন, স্থানীয় লোকজন এবং সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা, খুলনা, পটুয়াখালি, পিরোজপুর, বরিশালসহ পুরো অঞ্চল এখনো তীব্র ঝড়ের কবলে। পুরো অঞ্চল জুড়ে লাখ লাখ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগও।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মহসিন জানিয়েছেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সাগরেরর পানি ঢুকেছে অনেক এলাকায়।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, মঠবাড়িয়ায় দেয়াল চাপা পড়ে একজন মারা গেছে। বলেশ্বরী নদীর মাঝখানে মাঝির চর সাগরের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর।
বাংলাদেশ অংশে সাইক্লোন আম্পান দুর্বল হয়ে পড়েছে
সাতক্ষীরা পদ্মপুকুরে দুটি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া দুজন লোক হাবিবুর রহমান এবং ফরিদা আক্তার। সন্ধ্যা ৭টা ২৫মিনিটে এদের সঙ্গে আমার কথা হয়। দুজনেই বলছেন, তারা সাইক্লোন শেল্টারেরভেতরে বসে আছেন। দরোজা–জানালা সব বন্ধ। বাইরে থেকে প্রচণ্ড ঝড়ের শব্দই তারা কেবল শুনতে পাচ্ছেন। সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। সাইক্লোন শেল্টারের ভেতরে আতংকে আছে মানুষ। বাচ্চারা ভয়ে কাঁদছে। সবাই আল্লাহকে ডাকছে।
আবহাওয়া বিভাগের উপ–পরিচালক কাওসার পারভিন আমাকে জানিয়েছেন, সাইক্লোনের মূল কেন্দ্র আসলে পশ্চিমবঙ্গে, এটি এখন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা–খুলনা অঞ্চল থেকে উত্তর দিকে যাচ্ছে। বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০ হতো ১০০ কিলোমিটার। এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আম্পানের দাপটে বিপর্যস্ত কলকাতা বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে
“দুই ঘন্টা আগে থেকে ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। প্রবল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। বাতাসের গতি ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি।একটু আগে বাড়ির ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বাতাসের গতি এত বেশি যে ফিরে আসতে বাধ্য হই। কলকাতার বেশিরভাগ এলাকাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। শুধু কলকাতা নয়, অন্যান্য জেলাতেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ল্যান্ডলাইন টেলিফোনও কাজ করছে না। তবে মোবাইল অবশ্য এখনো চলছে। গাছপালা, ট্রাফিক বাতির পোস্ট উপড়ে গেছে বলে খবর পাচ্ছি। এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি অসমর্থিত সূত্রে।“
সাইক্লোন আম্পান: বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে আঘাত হানতে শুরু করেছে
সাইক্লোন আম্পান বাংলাদেশ এবং ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। সাইক্লোনটি যে পথ ধরে অগ্রসর হচ্ছিল, সেখানে প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসে গাছপালা উপড়ে গেছে, অনেক বাড়ি–ঘর মাটিতে মিশে গেছে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এর আগে ভারতের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে (ভারতীয় সময় দুপুর আড়াইটা) বলা হচ্ছিল, সাইক্লোন আম্পানের ল্যান্ডফল বা স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘুর্ণিঝড়টি তখন পারাদ্বীপের ১৯০ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে অবস্থান করছিল। আর দীঘা থেকে এটি ছিল ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে। তবে ল্যান্ডফলের পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগবে প্র্রায় চারঘন্টা।
বাংলাদেশে আম্পানে প্রথম মৃত্যু
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় একজন মারা গেছেন। তিনি ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি দলের সদস্য ছিলেন।
একটি খালে যখন যাচ্ছিলেন তখন দমকা হাওয়া নৌকাটি নাড়িয়ে দেয়। তিনি পড়ে যাওয়ার পর গামবুট ও গায়ে ভারি পোশাক থাকার কারণে আর উঠতে পারেননি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে প্রায় ২৪ লাখ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে যে কোন মূহুর্তে আঘাত হানবে আম্পান
ভারতের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে (ভারতীয় সময় দুপুর আড়াইটা) বলা হচ্ছে, সাইক্লোন আম্পানের ল্যান্ডফল বা স্থলভাগে আঘাত হানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘুর্ণিঝড়টি তখন পারাদ্বীপের ১৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। আর দীঘা থেকে এটি ছিল ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশের মেঘ এখন পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগের ওপর পৌঁছেছে। তবে ল্যান্ডফলের পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগবে প্র্রায় চারঘন্টা।
বাংলাদেশে যে ১০টি জেলায় ১০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হবে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে।
নাসার আর্থ অবজারভেটরির ছবিতে সুপার সাইক্লোন আম্পান
সাইক্লোন আম্পানের এই ছবিটি প্রকাশ করেছে নাসার আর্থ অবজারভেটরি। এই সুপার সাইক্লোন কতটা ভয়ংকর চেহারা নিয়েছিল ল্যান্ডফলের আগে তা স্পষ্ট ছবিতে। গতকাল যখন এটি তোলা হয় তখনো বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূল থেকে অনেক দূরে ছিল এটির কেন্দ্র।